কলকাতা: ১৯৯১ এর পর ২০২৬! দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026)। ২০২১-এর বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল মত ৮ দফায়। সেখান থেকে সোজা ২ কেন? বস্তুত, কম দফায় ভোট চাইছিল প্রায় সব রাজনৈতিক দল। কলকাতায় জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে সর্বদলীয় মিটিং-এ এক থেকে দুই দফায় ভোটের পক্ষে ছিল বাম- কংগ্রেস-বিজেপি।
জল্পনা ছিল, পশ্চিমবঙ্গে ২ বা ৩ দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। কিন্তু এদিন ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশে জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিলেন ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে (West Bengal Assembly Election 2026)। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে কোন জেলায় কবে ভোট তারও তালিকা প্রকাশ কড়া হয়েছে।
কেন ৮ থেকে ২?
২০২১ সালে ভোট হয়েছিল ৮ দফায়। সেখানে এবার দফা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) জানান, রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দু’দফাতেই সুষ্ঠু ও নিরাপদ ভোট করানো সম্ভব। পাশাপাশি ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে যেসব পুলিশ আধিকারিকের নাম উঠেছিল, তাদের এবারের ভোট প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ৮ দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় দেশজুড়ে COVID-19 মহামারি চলছিল, তাই ভোটগ্রহণে ভিড় কমানো এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ধাপে ধাপে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম দফার ভোট হয়েছিল ২৭ মার্চ এবং শেষ দফা ২৯ এপ্রিল। প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই ভোটপর্ব নিয়ে তখন রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা ও সমালোচনাও হয়েছিল।
বাকি ৪ রাজ্যে ১ দফা ভোট
এদিন পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম, কেরলম, তামিলনাড়ু ও পন্ডিচেরীর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্টও প্রকাশিত হয়েছে। কেরলম, অসম ও পন্ডিচেরীতে ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ। তামিলনাড়ুতে ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল। ৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণা ৪ এপ্রিল বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন হিংসা বা কোনও ধরনের প্রলোভন ছাড়াই সম্পূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠু হতে হবে, এমনই বার্তা দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন বা ভোটারদের প্রভাবিত করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কড়া ব্যবস্থা নেবে। এছাড়াও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আদর্শ আচরণ বিধি (Model Code of Conduct) অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।


