Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের আগে সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলিই থাকে পরীক্ষার মুখে। কিন্তু এ বার পশ্চিমবঙ্গে দেখা যাচ্ছে উল্টো ছবি। পরীক্ষায় বসেছেন যেন ভোটাররাই। ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় এখনও প্রায় ৫২ লক্ষের বেশি নাম ‘আন্ডার কনসিডারেশন’ (under consideration)। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
৬০ লক্ষের বেশি ভোটার ‘আন্ডার কনসিডারেশন’
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘আন্ডার কনসিডারেশন’ (under consideration) হিসেবে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৭.৫ লক্ষ ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ এখনও প্রায় ৫২.৫ লক্ষেরও বেশি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। নির্বাচন কমিশনের একাংশের মতে, মার্চ মাসের শেষ পর্যন্তও বাকি কাজ শেষ করা কার্যত অসম্ভব। অথচ সব নথি যাচাই না করে নির্বাচন করাও সম্ভব নয়।
সময়সীমা ঘিরে রাষ্ট্রপতি শাসনের জল্পনা
এই বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক দেবাশিস সেন বলেন, অতীতে পঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরে ভোট পিছিয়ে যাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছিল। এদিকে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। সেই সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকার কাজ শেষ না হলে পশ্চিমবঙ্গেও রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি বিজেপি সাংসদের
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা শনিবার দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে হওয়া প্রয়োজন। দার্জিলিং জেলার গোঁসাইপুরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সুযোগ পেলে তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাবেন এবং রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা বিবেচনার অনুরোধ করবেন।
সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন, সময়সীমা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ঘিরে এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।


