Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন রক্তাক্ত হয়ে উঠছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় (Bhangar) হোক বা উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ দুই জায়গার ঘটনাই যেন একই বার্তা দিচ্ছে , ভোটের আগে ভয় আর হিংসাই কি হয়ে উঠছে প্রধান হাতিয়ার?বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠছে এলাকা, আবার অন্য প্রান্তে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া কি আদৌ সম্ভব? রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এ সবই পরিকল্পিত শুধু মাত্র শক্তির প্রদর্শন, যেখানে সাধারণ মানুষই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় বলি।
সমালোচকদের মতে, প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের অভাবই এমন পরিস্থিতিকে বারবার উস্কে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলি কি সত্যিই নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, নাকি রাজনৈতিক চাপেই তাদের কার্যকলাপ প্রভাবিত হচ্ছে? ভোট যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে বাংলার রাজনীতিতে উন্নয়ন নয়, বরং দখলদারির লড়াইই যেন প্রাধান্য পাচ্ছে। আর এই লড়াইয়ের মাঝে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়িয়ে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নের মুখে ।
বুধবার রাত হঠাৎ এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে ভাঙড়ের (Bhangar) চালতাবেড়িয়া। বামনিয়ার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি, আর তার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল বিস্ফোরণের রহস্য। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায় কেউ বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা।স্থানীয় সূত্রে , আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটে ওই ফাঁকা বাড়িতে। কীভাবে, কেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আইএসএফ (Indian Secular Front) -এর অভিযোগ, সেখানে নাকি চলছিল বোমা তৈরির কাজ, আর সেই সময়ই এই বিস্ফোরণ। ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। যদিও এখনও পর্যন্ত কারও পরিচয় নিশ্চিত করেনি পুলিশ। অভিযোগ তুলেছে আইএসএফ (ISF) নেতৃত্ব তাদের দাবি, নিহত ও আহতরা সবাই শাসকদলের ঘনিষ্ঠ। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress )। বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকায় চরম উত্তেজনার মধ্যে এক এসএফআই (ISF) কর্মীকে মারধরের অভিযোগও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী।
এই ঘটনার সঙ্গে প্রায় একই সময়ে উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় ঘটে বিস্ফোরণ। এক রাতেই দুই জেলায় পরপর হিংসার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
সব মিলিয়ে, প্রশ্ন একটাই ভোটের আগে এই বিস্ফোরণ কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে বড় কোনও রাজনৈতিক অঙ্ক?


