Aaj India Desk, পশ্চিম বর্ধমান: পশ্চিম বর্ধমানের (Burdwan) সালানপুর ব্লকের সামডি এলাকায় রবিবার দুপুরে শুরু হয় ভূমিধস। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধস আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রথমে সীমিত এলাকায় ধস নামলেও, ধীরে ধীরে তার বিস্তার বাড়ছে এবং আশপাশের জমিতে বড় ফাটল দেখা দিচ্ছে।
রাতভর আতঙ্কে গ্রামবাসী
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে গ্রামের একটি মন্দিরের সামনে প্রথম ধস নামে। এরপর ধসের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। মন্দিরের একটি অংশ ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়েছে এবং আশপাশের জমিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ধসের আশঙ্কায় রবিবার রাতভর ঘুমোতে পারেননি এলাকার বাসিন্দারা। মন্দিরের কাছেই বসতিপূর্ণ এলাকা থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে গোটা গ্রামই ধসে তলিয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতির প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে সামডি কোলিয়ারিতে উৎপাদন ও কয়লা পরিবহন বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)-এর কোনও আধিকারিক ঘটনাস্থলে আসেননি।
ওপেন-পিট মাইনিংকে দায়ী করছেন বাসিন্দারা
গ্রামবাসীদের দাবি, সামডি গ্রামের একেবারে লাগোয়া এলাকাতেই একটি ওপেন-পিট খনি রয়েছে, যেখানে নিয়মিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়লা উত্তোলন করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, এই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ফলে মাটির গঠন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং ভূগর্ভস্থ স্তরে ফাঁপা অংশ তৈরি হয়েছে। এর জেরেই মাটির স্থায়িত্ব কমে গিয়ে বর্তমানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যদি এইভাবে খনির কাজ চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে ধসের পরিধি আরও বাড়তে পারে এবং পুরো বসতিপূর্ণ এলাকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
প্রাক্তন সামডি পঞ্চায়েত প্রধান জনার্দন তিওয়ারি বলেন, “খনি থেকে কয়লা তোলার আগে বারবার গ্রামবাসীদের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” তাঁর দাবি, দ্রুত নিরাপদ স্থানে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
‘ঘুমে’ দায়িত্বপ্রাপ্তরা
ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতভর আতঙ্কে জেগে থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। গ্রামবাসীরা বিপদের আশঙ্কায় জেগে থাকলেও, প্রশাসন এখনও ঘুমিয়েই রয়েছে।


