Aaj India Desk, কলকাতা : ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বুধবার বিকেলে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন। এবার কমিশনের ‘ধমক’ খেয়ে এই নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিল লালবাজার।
কমিশনের কঠোর অবস্থান
নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে পাঠিয়েছে। এর ভিত্তিতে কালীঘাট ও আলিপুর থানায় তিনটি মামলা রুজু হয়েছে। আলিপুর থানায় দুটি এবং কালীঘাট থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলিতে অবৈধ সমাবেশ, শান্তিভঙ্গ, স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা ছড়ানো এবং সরকারি নির্দেশ বা ধারা ১৪৪ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন
সূত্র অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকে কড়া ভাষায় প্রশ্ন করেন। সাথে কমিশন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জিজ্ঞেস করে যে কেন একাধিক জায়গায় অবৈধ সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং তৃণমূল সমর্থকরা কীভাবে অনুমতি ছাড়া সেখানে পৌঁছেছিলেন। বিজেপির দাবি, তাদের অনুষ্ঠানের আগাম অনুমতি ছিল, কিন্তু তৃণমূলের সমাবেশের কোনো বৈধ নথি ছিল না।
কী ঘটেছিল ?
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) হয়ে হাজরা মোড় থেকে রোড শো শুরু করেন। মিছিল হরিশ মুখার্জি রোড ও সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে এগোনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তৃণমূল কর্মীরা কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ শুরু করেন। পুলিশ ব্যারিকেড থাকা সত্ত্বেও দু’পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং লাঠি-বাঁশ নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে একজন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব কেন্দ্র ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মনোনয়ন ঘিরে এই অশান্তি নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে চলা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো আধিকারিকের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মনোভাব বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কমিশন। মালদা থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত একাধিক অশান্তির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের সতর্কবার্তার ফল হিসেবে লালবাজার থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। পুলিশ অ-জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে। এবার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহল মহলের।


