কলকাতা: শুক্রবার রাতে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়, রাজ্যসভার প্রার্থী (Rajya Sabha candidate) রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয়র পাশাপাশি মেনকা গুরুস্বামী এবং কোয়েল মল্লিক (Koyel Mallik)! যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে রাজীব কুমার এবং কোয়েল মল্লিককে নিয়ে।
ভারপ্রাপ্ত ডিজি পদে মেয়াদ না বাড়ানো, মেসিকাণ্ডের পরে শো কজ, প্রকাশ্যে তিরস্কারের পরও রাজীব কুমারের (Rajiv Kumar) প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থা যে এতটুকুও টলেনি, তারই প্রমাণ মিলল রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা (Rajya Sabha candidate) ঘোষণার মধ্য দিয়ে। রাজীব কুমারের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থায় যোগদানের জল্পনাকে হাওয়ায় উড়িয়ে তাঁকে নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তেই রেখে দিলেন মমতা।
পাশাপাশি, গেরুয়া শিবির ছেড়ে তৃণমূলে এসে বেশ ভালোই আছেন বাবুল সুপ্রিয়। মমতা এবং অভিষেক উভয়েরই আস্থাভাজন তিনি। মেনকা গুরুস্বামীকে প্রার্থী করার পেছনে তৃণমূলের শহুরে মানুষের আস্থা আদায়ের কৌশল রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। বাকি রইলেন কোয়েল মল্লিক (Koyel Mallik)।
পাঁচালির দিনই প্রক্রিয়া শুরু?
গত ১৪ জানুয়ারি বিকেলের দিকে হঠাৎ গল্ফ ক্লাব রোডে মল্লিকবাড়িতে উপস্থিত হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের হাতে উন্নয়নের পাঁচালি তুলে দিয়েছিলেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের বছরের শুরুতেই রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ শুধু শিরোনাম না জল্পনারও জন্ম দিয়েছিল। সাক্ষাতের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন।
“রঞ্জিত মল্লিক মহাশয়কে উন্নয়নের পাঁচালি-সহ সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় পরিয়ে অভিনন্দন জানালাম”। সেদিনের সাক্ষাতে অবশ্য দেখা যায়নি কোয়েল মল্লিককে (Koyel Mallik)। তবে ভোটের আগে হঠাৎ কেন এই সৌজন্য সাক্ষাৎ? তবে কি রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক? শুরু হয়েছিল জল্পনা। কিন্তু তার দেড় মাসের মাথায় রঞ্জিত-কন্যা কোয়েল মল্লিকের নাম রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায় (Rajya Sabha candidate)।
অর্থাৎ, তৃণমূলের হাত ধরে কোয়েল মল্লিক (Koyel Mallik) কেবল সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানই নয়, বরং রাজ্যসভার সাংসদ হতে চলেছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, ‘উন্নয়নের পাঁচালির’ দিনই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল এবং রঞ্জিত মল্লিকের পরিবর্তে তাঁর কন্যাকে প্রার্থী করে নবীন শিল্পীদের দলে অন্তর্ভুক্তির ধারাও বজায় রাখল তৃণমূল, বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


