Aaj India Desk, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের আগে একের পর এক তৃনমূলের (Trinamool) অভ্যন্তরে দলীয় কোন্দলের অভিযোগ সামনে আসছে। সেই আবহেই উত্তর ২৪ পরগনার বারানগরে শাসকদলের অন্দরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। দলেরই এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে, যা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
আলমবাজারের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কর্মী ছোটু মাহালির বক্তব্য, স্থানীয়ভাবে তিনি কাউন্সিলর পৃথা মুখার্জির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ছোটুর দাবি, কুমোরপাড়া লাইনের কাছে আম্বেদকর কলোনির বস্তিগুলিতে তিনি বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। সেই সূত্রেই স্থানীয় তৃণমূল নেতা পুলক ঘোষ তার কাছে টাকা দাবি করেন। তিনি বলেন, “গরিবদের ওপর বাড়তি চাপ দিতে চাইনি। তাই বিদ্যুতের খরচ বাড়াইনি। এরপরই আমাকে রাস্তায় তুলে মারধর করা হয়।” ঘটনার সময় তিনি তৃণমূলের (Trinamool) পতাকা লাগানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলেও জানান। খবর পেয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা অজয় গুপ্ত দক্ষিণেশ্বর থানার পুলিশ নিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে বারানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পুলক ঘোষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছোটু নাকি বিদ্যুৎ সংযোগের নামে এলাকায় কিছু মানুষকে মারধর করেছে। কেন তার নাম জড়ানো হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
তৃনমূলের (Trinamool) অভ্যন্তরে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। তবে ভোটের আগে একের পর এক এই ধরনের ঘটনা সামনে আসা যে দলীয় সংগঠনের পক্ষে অস্বস্তিকর তাতে সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দলীয় কোন্দল বিরোধী দলগুলির কাছে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। শাসকদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে তারা সংগঠনের দুর্বলতা, নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং স্থানীয় স্তরে অসন্তোষের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা ভোটারদের মধ্যেও নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে, যা জনসমর্থনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


