Aaj India Desk , মধ্যমগ্রাম : ভোটের দিনক্ষণ এগিয়ে আসতে একাধিক জায়গায় দেখা গেছে বিশৃঙ্খলা। এবার উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে (Madhyamgram) ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত রায়ের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল এক বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়েছে উত্তেজনা।
মঙ্গলবার সকালে হঠাৎই ধারালো অস্ত্র নিয়ে কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা চালান স্থানীয় বিজেপি কর্মী লোকনাথ দাস। সেই সময় বাড়ির বাইরে ঠাকুরের বাসন মাজছিলেন কাউন্সিলরের স্ত্রী রূপালি রায়। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত তাঁর উপর আক্রমণের চেষ্টা করে। কোনওক্রমে সেখান থেকে সরে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন তিনি। চিৎকার শুনে ঘুম থেকে নেমে আসেন সুশান্ত রায়। তিনি জানান, নিচে এসে দেখেন অভিযুক্ত বাড়ির পাশের একটি গলি দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। আওয়াজ পেয়ে আশপাশের বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মধ্যমগ্রাম (Madhyamgram) থানার পুলিশ। পরে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
সুশান্ত রায়ের দাবি, তিনি ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মধ্যমগ্রামের (Madhyamgram) এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন এবং এলাকায় তাঁর একটি শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনের আগে সেই প্রভাবকে লক্ষ্য করেই এই হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং তাঁকে খুনের চেষ্টা এবং একই সঙ্গে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ভোটের আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হতে পারে। যদিও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, তবুও তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা নেই বলেই দাবি করেন সুশান্ত রায়। তাঁর মতে, এই হামলার পেছনে ব্যক্তিগত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করতে পারে, যা খতিয়ে দেখা দরকার।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ টহলও বাড়ানো হয়েছে।


