Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর : আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা ফের নতুন মাত্রা পেল। বড় জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া নির্দেশের মধ্যেই, হেভিওয়েট কেন্দ্র নন্দীগ্রামের (Nandigram) বয়াল এলাকায় রবিবারের ঘটনায় নতুন করে চাপ বাড়ল রাজনৈতিক মহলে।
প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যেই উত্তেজনা
নির্বাচন কমিশন বড় জমায়েত এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়াচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এর মধ্যেই রবিবার নন্দীগ্রামে (Nandigram) সভা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে সংযমী বার্তা দিতে গিয়ে বলেন, বিরোধী প্রার্থীদের নিয়ে কোনও অশালীন মন্তব্য করা যাবে না। কিন্তু সভা শেষ হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের বাড়ির সামনে প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা পবিত্র করের বাড়ির সামনেই ‘চোর চোর’ স্লোগান তোলেন। পাশাপাশি প্রচ্ছন্ন হুমকিরও অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ থেকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী
উল্লেখ্য, পবিত্র কর একসময় শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বর্তমানে তিনি তাঁর বিরোধী শিবিরে। প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা পবিত্র করকে ঘিরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আগে থেকে জমে থাকা ক্ষোভই এভাবে প্রকাশ পেয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।
সৌজন্য না প্রচ্ছন্ন বার্তা ?
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে নন্দীগ্রাম (Nandigram) সবসময়ই সংবেদনশীল কেন্দ্র। আগামী ২৫ শে মার্চ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এই নন্দীগ্রামে জনসভার মাধ্যমে প্রচারে নামবেন বলে জানানো হয়েছে। তার ঠিক আগে এই ধরনের ঘটনাকে কেবল বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ হিসেবে দেখলে চলবে না। পাশাপাশি বিজেপির রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে মাঠের কর্মীদের আচরণের এই ফারাক ভোটের আগে কৌশলগত চাপ তৈরি করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষত শুভেন্দু বিরোধীদের নিয়ে মন্তব্য না করার নির্দেশ কার্যত “নিয়ন্ত্রণের বার্তা” দিলেও তাঁর সমর্থকদের উগ্র আচরণ অন্যদিকে রূপ নিচ্ছে। তবে শুভেন্দুর বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক সৌজন্য ছিল নাকি প্রচ্ছন্ন উস্কানি তা নিয়ে চলছে জোর চর্চা।


