মুর্শিদাবাদ: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কথা শুনে’ হিংসার দু-দিন পর স্থানীয় বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখের সঙ্গে বেলডাঙা গেলেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan)। এলাকায় ঢুকতেই তৃণমূল সাংসদকে ঘিরে ধরেন স্থানীয়রা।
দুদিন ধরে অশান্তি, ভাঙচুর, উত্তেজনা, অরাজকতা সত্ত্বেও কেন কোনও জনপ্রতিনিধির দেখা পাওয়া যায়নি? প্রশ্ন তোলেন এলাকাবাসী। জবাবে সাংসদ বলেন, “আমি এই জেলাতেই ছিলাম। আমাদের কর্মীরা সর্বক্ষণ যোগাযোগ রেখেছিলেন। আমি তাঁদের জন্যই কাজ করি”। এদিন ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজে গিয়ে মৃত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে শোকবার্তা দিলেন ইউসুফ (Yusuf Pathan)।
বিক্ষোভের মাঝে ইউসুফকে বেলডাঙায় যেতে বারণ করেছিলেন অভিষেকই
শুক্র-শনি পরপর দু-দিন পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু ও আনিসুর রহমানের হেনস্থাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। সড়ক-রেল অবরোধ, ১২ নং জাতীয় সড়কে ভাঙচুর, সাংবাদিকদের মারধোর, বাসভর্তি যাত্রীদের উপর হামলা সহ বেলডাঙা জুড়ে বিক্ষোভের নামে কার্যত তান্ডব চালায় দুষ্কৃতিরা।
শনিবার বেলডাঙার হিংসার মাঝেই বহরমপুরে রোড শো করেছিলেন ‘তৃণমূল সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, “ইউসুফ এখানেই আছেন। আমাকে ফোন করে বেলডাঙা যেতে চায় বলেছিল। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে সেখানে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আমি যেতে বারণ করি। বেলডাঙার অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে ওঁকে যেতে বলেছি”। অভিষেকের কথামত দু-দিন পরেই বেলডাঙায় গেলেন ইউসুফ পাঠান।
আলাউদ্দিন শেখের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ইউসুফ
মৃত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের পরিবারকে সব রকম সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দেন তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan)। তবে বেলডাঙার তান্ডবের নেপথ্যে রাজনৈতিক উস্কানি ছিল বলে ফের দাবি করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অশান্তির জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেন এবং নাম না করে ভরতপুরের নিলম্বিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও বিঁধেন। সেই প্রেক্ষাপটে ইউসুফের ‘ভুল বুঝিয়ে উস্কানি দেওয়া’ মন্তব্য তৃণমূলের ওই বক্তব্যকেই সমর্থন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


