কলকাতা: প্রার্থী তালিকা যে কেবল আনুষ্ঠানিকতা, এই রাজনৈতিক বার্তাই ফের তুলে ধরল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯৪টি কেন্দ্রে তিনিই প্রার্থী একথা বহুবার নিজেই উচ্চারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata banerjee)। এবার সেই একই সুর ধরা পড়ল সবুজ সেনার সেনাপতি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বক্তব্যে। ‘ধরে নেবেন আমিই প্রার্থী’!
এই মন্তব্য শুধু আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ নয়, বরং স্পষ্ট করে দেয় দলীয় কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে একক নেতৃত্বকে সামনে রেখে দল পরিচালনার বহু পুরনো রাজনৈতিক কৌশল! সম্প্রতি নওদায় ভোট প্রচারে অভিষেককে বলতে শোনা যায়, “প্রার্থীর সঙ্গে মতের অমিল বা মন কষাকষি হলে ধরে নেবেন আমিই প্রার্থী”। বলা বাহুল্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata banerjee) সবুজ সংকেত ছাড়া অভিষেকের মুখে এই মন্তব্য সম্ভব নয়, বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।
ধীরে ধীরে নিজের হাতে অভিষেকে তৈরি করেছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন প্রশ্ন উঠছে, তবে কি উত্তরসূরিকে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করে ফেলেছেন ত্রিনমু সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বাগডোর অভিষেকের (Abhishek Banerjee) হাতে তুলে দেওয়া কি তাহলে শুধুই সময়ের অপেক্ষা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ নয়, বরং সংগঠনের ভিতরে প্রার্থী-কেন্দ্রিক লড়াইকে সরিয়ে নেতৃত্ব-কেন্দ্রিক নির্বাচনী মডেলকে আরও মজবুত করার ইঙ্গিত। এতে একদিকে যেমন নেতৃত্বের উপর নির্ভরতা বাড়ে, তেমনই বিরোধীদের বিরুদ্ধে একটি সরাসরি, ব্যক্তিকেন্দ্রিক লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হয়।
এই কৌশল ভোটারদের কাছে বার্তা দেয়, প্রার্থী নয়, ভোটটি আসলে নেতৃত্ব ও তার প্রশাসনিক রেকর্ডের পক্ষেই। তবে এর ঝুঁকিও কম নয়। স্থানীয় স্তরে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা বা অসন্তোষ যদি বাড়ে, তা সরাসরি নেতৃত্বের উপরই প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এই ‘একক নেতৃত্ব বনাম সমষ্টিগত প্রার্থী’ মডেলই আগামী নির্বাচনে শাসকদলের সবচেয়ে বড় শক্তি, আবার একই সঙ্গে বড় পরীক্ষা হিসেবেও উঠে আসছে।


