27.2 C
Kolkata
Saturday, March 7, 2026
spot_img

রাজ্যে রাষ্ট্রপতির স্বাগতহীনতা, বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী

Aaj India Desk, শিলিগুড়ি: সামনেই বিধানসভার ভোট বাংলায় রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হল নতুন বিতর্ক। রাজ্যে এসে অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। তাঁর দাবি, নির্ধারিত অনুষ্ঠানের জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অনুমতি মেলেনি, ফলে বারবার বদলাতে হয়েছে অনুষ্ঠানস্থল।রাষ্ট্রপতির কথায়, পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য অনুমতি দেয়নি। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত গোঁসাইপুরে সভা করতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি এও বলেন, হয়তো তাঁর উপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)।

রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে আয়োজিত নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে এদিন উপস্থিত ছিলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। তবে রাষ্ট্রপতি মঞ্চে উঠলেও দর্শকাসনে চোখে পড়ে একাধিক ফাঁকা চেয়ার।উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রথমে এই সম্মেলনের আয়োজন করার কথা ছিল বিধাননগর (Bidhannagar) -এ। কিন্তু পরে একাধিকবার , প্রায় চারবার – সভাস্থল পরিবর্তন করা হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দর (Bagdogra Airport)-এর কাছাকাছি গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেয় প্রশাসন।

তবে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বহু আমন্ত্রিত ব্যক্তি অনুষ্ঠানে পৌঁছতে পারেননি। প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি পাস না থাকায় পুলিশ তাঁদের পথেই আটকে দেয় বলে । ফলে এত বড় সম্মেলনেও অনেক আসন ফাঁকাই থেকে যায়।

সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে খালি আসন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত চেয়ার ফাঁকা কেন? তিনি বলেন, কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো ভাবে হয় তো এই সভায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে কেও ।এরপরও তিনি গোঁসাইপুরের সভাস্থল থেকে বেরিয়ে পৌঁছে যান শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগর (Bidhannagar ) এলাকায় যেখানে প্রথমে সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। সেখানে গিয়ে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন এবং বলেন, তিনি তো এখানেই সভা করতে চেয়েছিলেন, জায়গারও কোনও অভাব নেই।পাশপাশি রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেই প্রশ্ন তোলেন, পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও কেন রাজ্য সরকার তাঁকে সেখানে সভা করার অনুমতি দিল না। প্রসঙ্গ টেনেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) -র কথাও উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতির কথায়, ‘উনি আমার ছোট বোনের মতো। তবে হয়তো কোনও কারণে তিনি আমার উপর রাগ করেছেন। সেই কারণেই হয়তো আমাকে সেখানে সভা করতে দেওয়া হয়নি।’

অনুষ্ঠানে রাজ্যের তরফে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্য কোনো মন্ত্রীকেও দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপতি কোনও রাজ্যে সফরে গেলে তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কারও উপস্থিত থাকা প্রোটোকলের অংশ।

শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগর (Bidhannagar) -এ পূর্বনির্ধারিত স্থানে একটি শালগাছ রোপণ করে সেখান থেকে বাগডোগরা (Bagdogra Airport)-এর উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

অন্যদিকে এই বিতর্ক প্রসঙ্গে ভিন্ন সুর শোনা যায় শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব ( Goutam Deb)-এর গলায়। তাঁর দাবি, রাজ্যের তরফে তিনিই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি জেলা শাসক ও পুলিশ কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও জানান, এর আগেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায় (Pranab Mukherjee) শিলিগুড়ি সফরে এলে তাকেই স্বাগত জানাতে হয়েছিল। সভাস্থল বদল নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মেয়রের বক্তব্য, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু কারণেই স্থান নির্বাচন নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন