Aaj lndia Desk,পূর্ব বর্ধমান:বর্ধমানের কেতুগ্রাম ব্লকের একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘটে নৃশংস ঘটনা সরকারি কোয়ার্টারের ছাদ ধসে চার মাসের এক শিশুকন্যার মৃত্যু। ঘুমের মধ্যে হঠাৎ ছাদ ভেঙে পড়ায় প্রাণ হারায় ছোট্ট শিশুটি।স্থানীয়রা জানান, এই ঘটনা স্বাস্থ্য পরিকাঠামে বেহাল অবস্থা স্পষ্ট। পরিবার অভিযোগ করেছেন, বহুবার কোয়ার্টারের মেরামতের জন্য লিখিত আবেদন করা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর এই গাফিলতিরই শিকার হল এক মাসের ছোট্ট জীবন।ঘটনাটি কেবল স্থানীয় মানুষের দুঃখই বাড়ায়নি, বরং সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামের অস্বচ্ছতার পরিস্থিতিকেও সামনে এনেছে।
কেতুগ্রাম ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি কোয়ার্টার (Government quarters of Ketugram Block Primary Health Centre) এই থাকতেন স্বাস্থ্যকর্মী দম্পতি, কাটোয়া পুরসভার অধীন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট(Lab Assistant)শিবানী সোরেন এবং কেতুগ্রামের সীতাহাটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট সানু বেসরা। তাঁদের সঙ্গেই ওই কোয়ার্টারে ছিল চার মাসের কন্যা প্রিয়দর্শী।কাজের সুবিধার জন্যই সরকারি আবাসনে থাকা, কিন্তু সেই নিরাপদ আশ্রয়ই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির কেন্দ্র।
শুক্রবার দুপুর প্রায় আড়াইটে। ঘরের মেঝেতে শুয়ে ছিল চার মাসের প্রিয়দর্শী। আচমকাই নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয় পরিবারের অভিযোগ, ছাদের একটি বড় চাঙড় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সরাসরি শিশুটির মাথার উপরেই।ঘরে থাকা অন্য সদস্যরা অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও মারাত্মক জখম হয় ছোট্ট প্রিয়দর্শী। আতঙ্কে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই দৌড় আর শেষ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি পথেই থেমে যায় চার মাসের জীবনের লড়াই।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার। তাঁদের দাবি, কোয়ার্টারের বেহাল অবস্থা নিয়ে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল দপ্তরে, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সময়মতো মেরামত হলে আজ এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত এমনটাই আক্ষেপ তাঁদের।শুধু একটি কোয়ার্টার নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আরও বহু আবাসনের অবস্থাও সমান বিপজ্জনক বলেই অভিযোগ। বছরের পর বছর পুরনো, জীর্ণ এই কোয়ার্টারগুলিতে কার্যত প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মীরা।এদিকে ঘটনার গুরুত্ব স্বীকার করে কাটোয়া মহকুমার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌভিক আলম (Souvik Alam) জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে এই আশ্বাস আদৌ কতটা বাস্তবায়িত হবে? নাকি কিছুদিনের মধ্যেই সব চাপা পড়ে যাবে,আর একই গাফিলতির খেসারত আবারও দিতে হবে নিরীহ প্রাণকে।


