Aaj India Desk, কল্যাণী: নদিয়ার College of Medicine & JNM Hospital-এর জুনিয়র বয়েজ হোস্টেলের একটি কক্ষ থেকে এমবিবিএস ছাত্র পুলক হালদারের দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পচাগলা অবস্থায় দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের দাবি, গত ২০ ফেব্রুয়ারি কলেজ ক্যান্টিনে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল পুলককে। তারপর থেকে তিনি আর হোস্টেল কক্ষের বাইরে আসেননি। টানা প্রায় তিন দিন ঘরের দরজা বন্ধ থাকলেও বিষয়টি বিশেষ নজরে আসেনি। বৃহস্পতিবার সকালে হোস্টেল চত্বর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করলে সন্দেহ হয় সহপাঠী ও কর্তৃপক্ষের। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে দরজা ভেঙে ঘরের ভিতর থেকে পুলকের দেহ উদ্ধার করে।
মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে খবর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ধামুয়ায় ছিল পুলকের বাড়ি। College of Medicine & JNM Hospital-এর চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র হিসেবে আগামী মাসে গাইনোকলজি ও জেনারেল সার্জারির ফাইনাল পরীক্ষায় বসার কথা ছিল তাঁর। সহপাঠীদের কথায়, সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি প্রবল চাপে ছিলেন। ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিলেন, কথাবার্তাও কমে গিয়েছিল।
জেএনএম সূত্রে খবর , মানসিক উদ্বেগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শও নিচ্ছিলেন পুলক। তবু বেশিরভাগ সময়ই একাই ঘরে থাকতেন, বন্ধুদের সঙ্গেও যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন উঠছে, এই নিঃশব্দ মানসিক লড়াইই কি শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনল এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, খুন না আত্মহত্যা , নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু কিছুই এখনো নিশ্চিত নয়।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবার ও সহপাঠীরা গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো কলেজ কমিউনিটিতেও বিরাট উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।


