কলকাতা: “এতগুলো চিঠি কেন দিয়েছি জানেন? রেকর্ড করে রাখছি”! শুক্রবারও এসআইআরের ‘বিবেচনাধীন’-দের সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত না হওয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, “একটা কমিউনিটিকে টার্গেট করে নাম বাদ দিয়েছে। ৬০ লক্ষের মধ্যে ২২ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে, ১০ লক্ষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে”, অভিযোগ তোলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গতকাল ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রশ্ন উঠছিল, গণতান্ত্রিক অধিকার না ভোটের মুখে মানুষের সহানুভূতি কুড়োতে একের পর এক চিঠি দিচ্ছেন মমতা? সেইসব চিঠি দেওয়ার কারণও এদিন বলে দিলেন তিনি। একের পর এক আক্রমণে কমিশন ও বিজেপিকে ফের বিঁধলেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে গেছে। গ্যাস নেই। এদিকে বাইরে থেকে মাইক্রো অবজারভার পাঠানো হচ্ছে। “এত লোককে খাওয়াবে কে? তাঁরা তো বাংলার সব লুটেপুটে খেয়ে চলে যাচ্ছে!”
ভোটের ইস্তেহারে কি কি প্রতিশ্রুতি?
উল্লেখ্য, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডার, আশা কর্মীদের ভাতা বাড়িয়েছিলেন তিনি। সেইসঙ্গে যুবসাথী ঘোষণা, পুরোহিত, মোয়াজ্জেমদের ভাতা বাড়িয়েছিলেন তিনি। তৃণমূলের ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ ইশতেহারে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে এসেছে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, আগের মতোই চলবে ‘দুয়ারে সরকার’, তবে এবার এর সঙ্গে যুক্ত হবে স্বাস্থ্যসেবার নতুন উদ্যোগ ‘দুয়ারে চিকিৎসা’, যা পাড়া ও ব্লক স্তরে ক্যাম্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যাঁরা এতদিন এই পরিষেবা দিতেন, তাঁদের অনেককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবু কাজ থেমে থাকবে না, আরও জোরদারভাবে চলবে।” তৃণমূল সূত্রের খবর, নতুন এই প্রকল্পটি অনেকটাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ উদ্যোগের মতো গড়ে উঠছে, যেটির মাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যেই নিজের লোকসভা কেন্দ্রে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসা পৌঁছে দিয়েছেন।
“অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন”
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ফের রাজ্যে “অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে গয়েছে” বলে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুক্রবার তৃণমূলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানের শুরুতেই কেন্দ্রীয় সরকারকে কঠোর আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকেও লক্ষ্য করে প্রশ্ন তোলেন কেন ভোটের আগে বাংলার সমস্ত অফিসারদের বদলি করা হচ্ছে। মমতার দাবি, “প্রতিবারই বিজেপি চক্রান্ত করে, তবে এবার সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। নির্বাচন কমিশনের চক্রান্ত সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে।”


