পৌলমী ব্যানার্জী ,বারুইপুর :বারুইপুরের পুরন্দরপুর মহাশ্মশান — এমন এক জায়গা যেটিকে বহু মানুষ অদ্ভুত চোখে দেখে, বিশেষত রাতের অন্ধকারে। অনেকেই শ্মশানের পথে হাঁটতেও ভয় পান। কিন্তু আজ সেই অন্ধকারের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে একজন — টুম্পা দাস(Tumpa Das) পশ্চিমবঙ্গের একা একমাত্র মহিলা ডোম, যিনি(Tumpa Das) ভয়ের বাইরেও দাঁড়িয়ে প্রতিদিন অগণিত মানুষের শেষ যাত্রায় অনন্য সমর্পণ নিয়ে কাজ করছেন।
টুম্পার(Tumpa Das) জীবন শুরুটা অন্যদের মতো স্বপ্নাময় ছিল না। মাধ্যমিক পাশের পর নার্সিং-এ প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করলেও জীবন কেটে যাচ্ছিল সংসারের ছোট-বড় দায়িত্ব চাপিয়ে। সেই সময় হঠাৎই মারা যান তাঁর বাবা, বাপি দাস — যিনি নিজেই শ্মশানের ডোম ছিলেন। পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে টুম্পার (Tumpa Das) সামনে দাঁড়াল সংসারের এক কঠিন বাস্তবতা: সংসার চালাতে হলে কাজ করতে হবে। আর সেই কাজই ছিল অতীতে পুরুষদের জন্যই বিবেচিত — দেহ সৎকার থেকে শুরু করে চুল্লি জ্বালানো পর্যন্ত সকল দায়িত্ব।
শুরুর দিকে টুম্পা(Tumpa Das) নিজেও ভয় পেতেন অন্ধকারের আবেশে, নির্জন শ্মশানে একা কাটাতে রাত পার করতেন আতঙ্কে। কিন্তু আজ সেই ভয় সাহসে পরিণত হয়েছে।
টুম্পা(Tumpa Das) বলেন, “শ্মশানের মৃতদেহ আমার মনে ভয় সৃষ্টি করে না — বরং অনেক সময় জীবিত মানুষের আচরণই বেশি ভয়ঙ্কর লাগে।” তিনি এইটাও জানান “এই জায়গাটা শ্মশান বলে মানে না ।
প্রতিদিন তিনি(Tumpa Das) সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শ্মশানে থাকেন, মৃতদের নাম নথিভুক্ত করা থেকে শুরু করে দেহকে চুল্লিতে বসানো এবং শেষ পর্যন্ত পারিবারিক লোকদের হাতে অস্থি তুলে দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত কাজ একাই করেন। ২০১৯ সালে ইলেকট্রিক চুল্লি যুক্ত হলেও তাঁর দায়িত্ব ও কাজের পরিমাণ বেড়েছে।
যদিও সমাজের কিছু মানুষ প্রথমে তাঁর কাজে বাঁকা চোখে দেখত, এখন তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়। অনেক পুজা কমিটি তাঁকে প্রধান অতিথি হিসেবে পূজা উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যা তাঁর সংগ্রামের এক বড় স্বীকৃতি।
টুম্পা(Tumpa Das) শুধু একটি কাজ করেন না — তিনি ভয়ের সঙ্গে লড়াই করে মানুষের জীবনের শেষ অধ্যায়ে শান্তি ও সম্মান ফিরিয়ে দেন। আজ তিনি(Tumpa Das) অনেকে নারীর কাছে অনুপ্রেরণা, প্রমাণ করে দিয়েছেন-“অন্ধকার যতই গভীর হোক, সাহস থাকলে পথ খুঁজে নেওয়া যায়।”


