Aaj India Desk, জলপাইগুড়ি: রাজনীতিতে “শেষ কথা” বলে কিছু নেই – এই পুরনো কথাটাই যেন আবার নতুন করে প্রমাণ হল জলপাইগুড়ির মাটিতে। সব জল্পনা কাটিয়ে তৃণমূলে(TMC) ফের সসম্মানে প্রত্যাবর্তন করলেন বাগরাকোটের পরিচিত মুখ ও দাপুটে নেতা রাজেশ ছেত্রী( Rajesh Chetri)। শুধু ফেরা নয়, তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হল জেলা কমিটির সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও। ভোটের মুখে শাসক দলের এই পদক্ষেপকে অনেকেই বলছেন একেবারে ‘টাইমড মাস্টারস্ট্রোক’।
গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর, দলীয় অস্থিরতার অভিযোগে অঞ্চল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজেশকে। দায়িত্ব দেওয়া হয় সুশীল মাঝিকে। কিন্তু ভোট এগিয়ে আসতেই পাল্টাতে শুরু করে সমীকরণ। রাজনৈতিক মহলের মতে, সংগঠন চালানো আর ভোট ম্যানেজমেন্টে রাজেশের দক্ষতাকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠেছিল। ২০১৯-এ যেখানে এই অঞ্চলে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ব্যবধান ছিল প্রায় ৯ হাজার ভোট, সেখানে ২০২৪-এ সেই ব্যবধান কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৫০ – আর এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে রাজেশের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।
দলীয় সূত্রে খবর, উপরতলার সম্মতিতেই বার্তা পৌঁছেছিল রাজেশের কাছে। শেষমেশ মহুয়া মৈত্রর (Mahua Moitra) সবুজ সংকেত মেলার পর শুক্রবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং নতুন দায়িত্বও তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে।
দলে ফিরেই আত্মবিশ্বাসী রাজেশ বলেন,”দল আমাকে যে সম্মান দিয়েছে, তার মর্যাদা রাখব। এবার একটাই লক্ষ্য – বুলু চিক বরাইককে জিতিয়ে চতুর্থবারবিধানসভায় পাঠানো।” অন্যদিকে বর্তমান অঞ্চল সভাপতি সুশীল মাঝিও তাঁর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন।
দলীয় নেতাদের একাংশের মতে, মাল বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করে বাগরাকোটের ফলাফলের ওপর। তাই ভোটের ঠিক আগে রাজেশ ছেত্রীকে ফেরানো – শুধু আবেগের সিদ্ধান্ত নয়, বরং স্পষ্ট রাজনৈতিক কৌশল।


