Aaj India Desk, কলকাতা : বিজেপির (BJP) প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। এবার জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের উপস্থিতিতেই বঙ্গে শুরু হলো দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই সল্টলেকের বিজেপি দফতরের সামনে বালাগড়, বাদুড়িয়া-সহ একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কিছু প্রার্থীকে স্থানীয় সংগঠনের মতামত ছাড়াই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
বালাগড় কেন্দ্রে সুমনা হালদারকে প্রার্থী করা নিয়ে বিশেষ ক্ষোভ প্রকাশ পায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক ছিল এবং দলীয় কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও উঠেছিল। সেই কারণেই তাঁকে অবিলম্বে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এছাড়া বসিরহাট, মিনাখাঁ-সহ আরও কয়েকটি আসনেও প্রার্থী বদলের দাবি ওঠে। একই ধরনের অসন্তোষ আগে হিঙ্গলগঞ্জ কেন্দ্রেও দেখা গিয়েছিল। সেখানে রেখা পাত্রকে প্রার্থী করার বিরোধিতা করে ‘ভূমিপুত্র’কে টিকিট দেওয়ার দাবিতে কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান।
উল্লেখ্য, একই সময়ে বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি বাংলায় এসে সংগঠনকে মজবুত করতে ম্যারাথন বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষ এবং তা মোকাবিলার কৌশল এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল। এছাড়া তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, নির্বাচনী ইস্তাহার চূড়ান্ত করা এবং প্রচারের মূল রূপরেখা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। আসন্ন নির্বাচনে প্রচারকে আরও জোরদার করতে শীর্ষ নেতৃত্বের কর্মসূচিও প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকের মাঝেই ঘরের আগুনে অস্বস্তিতে পড়ল বিজেপি (BJP)। ভোটের ঠিক আগে শীর্ষ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাঝেই এই ধরনের দলীয় বিক্ষোভ বিজেপির সংগঠনগত সংহতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নির্বাচনের সময় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এলে তা সাধারণ কর্মীদের মনোবল ও প্রচারের গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে স্থানীয় স্তরে বিরোধ তীব্র, সেখানে ভোটারদের কাছে আসলে কী বার্তা যাবে তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চলছে জল্পনা।


