Aaj lndia Desk, হুগলি : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই দেওয়াল লিখন শুরু করেছে। তবে শুধু প্রচারণা নয়, এই দেওয়াল দখল নিয়েও সংঘাত শুরু হয়ে গেছে। তেমনই একটি উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা নজরে এসেছে , যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেওয়াল দখল এবং প্রচারণাকে কেন্দ্র করে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। হুগলি ( Hooghly)-র সপ্তগ্রামে দেওয়াল লিখন ঘিরে সংঘাত, বাঁশবেড়িয়া এলাকায় দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অশান্তি ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিপিএম (CPM) এর কর্মীরা দলের প্রার্থী অনির্বাণ সরকার (Anirban Sarkar ) – এর সমর্থনে দেওয়ালে প্রচারণার কাজ করছিলেন। এর পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে দেওয়াল মুছতে চাপ দেওয়া হলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
সিপিএম(CPM) অভিযোগ করছে, তাদের এক কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। অনির্বাণ সরকার (Anirban Sarkar ) বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক প্রচারণার কার্যক্রমেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আমরা নির্বাচন কমিশনকেও এই বিষয়ে অভিযোগ জানাব।’
অন্যদিকে তৃণমূলের বাঁশবেড়িয়া পুরসভার কাউন্সিলর মহম্মদ শাহিদ (Mohammed Shahid ) দাবি করেছেন, ‘নির্বাচন ঘোষণার আগেই সিপিএমের (CPM) কর্মীরা আমাদের দেওয়াল দখল করে চুনকাম শুরু করে। আমরা তখনও কিছু বলিনি। পরে তারা আমাদের দেওয়ালেও চুনকাম করতে আসে। সামান্য বচসা হয়েছে, তবে মারধর হয়নি।’
দুই পক্ষের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, দেওয়াল লিখন কেবল একটি প্রাথমিক প্রচারণার কাজ হলেও তা এখন উভয় দলের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় মানুষ এবং পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই ধরনের ঘটনা ভোটের আগে ঘটতে থাকে, তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার শান্তিপূর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটের আগে ক্ষমতার চিহ্নিতকরণের লড়াই এই ঘটনায় স্পষ্ট। দেওয়াল লিখন বা প্রাথমিক প্রচারণা এমন ছোটখাটো ইস্যুতে হিংসা বাড়ানো রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকেও ইঙ্গিত দেয়। নির্বাচন কমিশনারদের এখন এই ধরনের ঘটনা নজরদারি ও তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে ভোটারদের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত হয়।


