স্নেহা পাল, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বহু প্রাথমিক স্কুলে রয়েছে শিক্ষকের ঘাটতি, আবার কোথাও শিক্ষক থাকলেও পড়ুয়া নেই।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে ৬,৩০০র বেশি প্রাথমিক স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। আবার কিছু স্কুলে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা নগণ্য। সাম্প্রতিক ইউডিআইএসই প্লাসের (UDISE Plus) রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, সারা দেশে ১২,৯৫৪টি স্কুলে শূন্য ছাত্রসংখ্যা থাকলেও সেখানে প্রায় ৩১,৯৮১ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। পশ্চিমবঙ্গের ছবিও এর ব্যতিক্রম নয়। আবার যুবসাথীর মত প্রকল্পে প্যারা শিক্ষকরা ব্যস্ত। ফলে ক্লাস নেওয়ার মতো বিকল্প ব্যবস্থাও নেই।
অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের হাজার হাজার নিয়োগ বাতিল হওয়ায় স্কুলগুলিতে দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মিড ডে মিল, প্রশাসনিক নথিপত্র, স্কুল রক্ষণাবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় WBSSC ২০২৫ সালের শেষের দিকে ৮,৪৭৮টি গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি অশিক্ষক পদে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করার কথা জানিয়েছিল। তবে তারপরেও বহু স্কুল কার্যত কর্মীহীন অবস্থায় চলছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের একটি পৃথক মামলায় হাজার হাজার শিক্ষক চাকরি ফিরে পেলেও, এর আগেই শীর্ষ আদালত ২০১৬ সালের প্যানেল সংক্রান্ত মামলায় ২৫ হাজারেরও বেশি স্কুল চাকরি বাতিলের নির্দেশ বহাল রাখে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায়।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষক, কর্মী ও পড়ুয়া, তিন ক্ষেত্রেই ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ, স্কুল একীভূতকরণ এবং বাস্তবসম্মত শিক্ষা পরিকল্পনা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক্ষেত্রের এই সংকট কাটানো কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


