Aaj India desk, ধূপগুড়ি: তিন আনুমানিক ১টা ৩০। হঠাৎ বুধবার রাতে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে দেখা যায় রাস্তা-র ধারে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে(Road accident) এবং ঘটনাটি ঘটে ধূপগুড়ি(Dhupguri)হাই স্কুলের সামনে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলে, পাঞ্জাব নম্বরের একটি ১০ চাকার লোহা বোঝাই লরি দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় একটি সবজি বোঝাই ট্রাককে ওভারটেক করতে যায়। সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিটি সোজা ধাক্কা(Road accident) মারে সুধীর রায়ের চায়ের দোকানে। ধাক্কার জোর এতটাই ছিল যে দোকানের সামনের সিমেন্টের ইলেকট্রিক পোল ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং লরিটি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রাণহানি হয়নি—এটাই একমাত্র স্বস্তি। তবে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার জোগাড় দোকান মালিকের!
এদিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধূপগুড়ি (Dhupguri)থানা-র পুলিশ। লরিটিকে আটক করা হয়েছে।বিপরীত -এ চালক ও খালাসিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। শোনা যায়-
“এই দোকানটাই ছিল আমাদের ভরসা”
ধূপগুড়ির (Dhupguri )১১ নম্বর ওয়ার্ডের সৎসঙ্গ পাড়ার বাসিন্দা সুধীর রায় গত ৩৫ বছর ধরে হাই স্কুলের সামনে এই চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। দুর্ঘটনার পর ভাঙা টিন আর ছড়িয়ে থাকা কাচের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “রাতের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। এই দোকানের আয়ে মেয়ের পড়াশোনা, সংসার—সব চলত। এখন কীভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না।” মেয়ে পম্পা রায়ের কথায় স্পষ্ট অসহায়তা—“আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে যাচ্ছি না। প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি, বাবার এই ক্ষতির সঠিক সমাধান করা হোক।”
রক্ষা কি হলো?
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সময়টা গভীর রাত হওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে কারণ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই এলাকা অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে। এদিকে অন্য বাসিন্দাদের বক্তব্য,
“যদি সন্ধের সময় হতো, বহু মানুষ থাকত এখানে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারত, আগের ২ নম্বর ব্রিজের দুর্ঘটনার মতো।”
এই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠছে গভীর রাতে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া(Road accident) গতিবিধি নিয়ে। প্রাণহানি না হলেও, এক পরিশ্রমী মানুষের তিন দশকের পরিশ্রম মুহূর্তে ভেঙে পড়েছে। এখন ধূপগুড়ির (Dhupguri) মানুষ তাকিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে। তাহলে কি এর বিচার হবে না?এরকম ভাবেই কি তারা থাকবে?


