স্নেহা পাল, হাওড়া : ‘ফর্ম ৭’ (Form 7) জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাওড়া সদরের মুখ্য নির্বাচনী কার্যালয় চত্বরে সোমবার সন্ধ্যায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির অভিযোগ, দলীয় কর্মীরা ফর্ম জমা দিতে এলে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বাধা দিয়ে মারধর করে। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও গতকাল রাত পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে চলেছে সংঘর্ষ।
রাতের অন্ধকারে ‘ফর্ম ৭’ ছিনতাই
বিজেপির দাবি, হাওড়া সদরের তৃণমূল সভাপতি ও উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর নেতৃত্বে তৃণমুল তাঁদের কর্মীদের উপর চড়াও হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিজেপি কর্মীদের মারধর করে ‘ফর্ম ৭’ (Form 7) ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে হাওড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কাটছাঁটের ছক নাকি রাজনৈতিক হামলা ?
তৃণমূল নেতা ও কর্মীরা গতকাল হাওড়ার মুখ্য নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে গোপনে ‘ফর্ম ৭’ (Form 7) জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি। তবে তৃণমূল এই অভিযোগে অনড় থাকলেও বিজেপি তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা শাসক দলের বিরুদ্ধে হামলা ও আক্রমণের অভিযোগ তুলেছে।
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রশাসনিক দফতর চত্বরে দলীয় কর্মীদের উপস্থিতি ও পাল্টা অভিযোগ নতুন নয়। ভোটার তালিকা সংশোধন ও বিভিন্ন ফর্ম জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাওড়া সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় আগেও রাজনৈতিক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। আসানসোল থেকে শুরু করে কল্যানী, রাজ্যের সর্বত্র একই ঘটনায় তৃণমুল বিজেপির রাজনৈতিক সংঘর্ষ যে ক্রমশ বেড়েই চলেছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।


