কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের রেশ এবার মন্দিরে। জ্বালানি সংকটে (Fuel Crisis) এবার ঠাকুরের ভোগ থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন ভক্তরা! জানা গিয়েছে, ৫১ সতী পীঠের এক পীঠ তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরে রান্নার গ্যাসের অপ্রতুলতায় মায়ের ভোগ বিতরণে কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। যেখানে সাধারণত দিনে ৫০০-৮০০ মানুষকে ভোগ খাওয়ানো হয়, সেখানে আগামী ২১ মার্চের পর থেকে ভোগ পাবেন না সাধারণ ভক্তরা।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কতদিন পর্যন্ত ভোট বিতরণ বন্ধ থাকবে তা নিয়েও সন্ধিহান মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দির কমিটির এক সদস্য শিবাজী অধিকারী জানান, আগে ভক্তদের আনা কাঠে মায়ের মন্দিরে ভোগ রান্না হত। সেই ভোগই শতাধিক ভক্তের মধ্যে বিলি করা হত। কিন্তু মন্দিরের নতুন ভোগ তৈরির ঘরে গ্যাসেই রান্নাবান্না হয়। এদিকে যুদ্ধের কারণে রান্নার গ্যাস অপ্রতুল (Fuel Crisis)। ফলত, বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। পাশাপাশি, বাগবাজার মায়ের বাড়িতেও ভক্তদের জন্য ভোগ বিতরণ বন্ধ করা হয়েছে।
রেস্তোরাঁ থেকে গৃহিণীর হেঁশেল! জ্বালানি সংকটে ত্রাহি রব সর্বত্র
প্রসঙ্গত, ইজরায়েল-আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে ইরান। যার ঢেউ আছড়ে পড়েছে সমগ্র বিশ্বে। ভারতে জ্বালানি গ্যাস ও অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই পথ বন্ধ থাকায় ভারতের বিভিন্ন শহরে রান্নার গ্যাসের লাইনে (Fuel Crisis) ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। পেট্রোল পাম্প গুলোতেও উপচে পড়া ভিড়। আরও দাম বাড়ার এবং জ্বালানি না পাওয়ার আতঙ্কে জ্বালানি (Fuel Crisis) মজুত করছেন আমজনতা।
এই নিয়ে বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। বুধবার কলকাতাতে সিএনজির দাম একলাফে পাঁচ টাকা বেড়ে গিয়েছে। রান্নার গ্যাসের বুকিং-এর ঝড়ে সার্ভার ক্র্যাশ করে যায়। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে মেনুতেও কাটছাঁট করেছে একাধিক রেস্তোরাঁ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে চরম সংকট এবং আতঙ্কের মধ্যে পড়বে ভারত, আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।


