Aaj India Desk, কলকাতা: মালদহের মোথাবাড়ি ঘটনায় (Mothabari Incident) তুমুল বিতর্কে অস্থির ছিল রাজ্য। বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই ঘটনায় সোমবার কঠোর অবস্থান নিল ভারতের শীর্ষ আদালত।
সোমবারের শুনানিতে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, মোথাবাড়ি ঘটনার (Mothabari Incident) সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নথি ও প্রমাণ NIA-র হাতে তুলে দিতে হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, সাতজন বিচারককে ঘেরাও করার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মফাক্কারুল ইসলাম ও শাহজাহান আলিকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই গ্রেফতারদেরও NIA-র হেফাজতে দিতে হবে।
শুনানির সময় মোথাবাড়ি ঘটনার (Mothabari Incident) একটি ভিডিও আদালতে পেশ করা হয়। সেখানে এক বিচারকের আতঙ্কিত কণ্ঠ শোনা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ভিডিওটি দেখার পর প্রধান বিচারপতি সতর্ক করেন, পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হলে শীর্ষ আদালত নিজেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
নির্বাচন কমিশনের আপত্তি
এই শুনানিতে Election Commission of India-ও বিষয়টি উত্থাপন করে। কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী, বিশেষ করে CRPF নিয়ে করা কিছু মন্তব্য পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত করতে পারে। এই প্রসঙ্গ আদালতেও আলোচনায় উঠে আসে।
NIA-র ২৫ পাতার রিপোর্ট
NIA আদালতে ২৫ পাতার একটি রিপোর্ট জমা দেয়। সেখানে মোথাবাড়ি এলাকার ২২ জন বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং আক্রান্ত বিচারকদের বক্তব্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে কিছু অসঙ্গতিও ধরা পড়েছে। রিপোর্টে ঘটনার দিন পরিস্থিতির তীব্রতা এবং প্রশাসনিক গাফিলতির প্রশ্নও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। কেন্দ্রীয় স্তরে তদন্তের পরই এই রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জবাবদিহি দুই দিকেই নজরদারি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।


