কলকাতা: ভোটের (Election) ঢাকে কাঠি পড়তেই সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘নগদের রাজনীতি’। আমজনতার পকেটে সরাসরি অর্থ সহায়তা রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম কার্যকর নির্বাচনী কৌশল। একুশের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lokkhir Bhandar)-এর কামাল দেখেছিল সমগ্র রাজ্য। সেই মডেলেই ২০২৫-এর বিহার ভোটের আগে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ সহায়তা পৌঁছে দিয়ে বাজিমাত করে এনডিএ শিবির।
এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘তুরুপের তাস’ লক্ষ্মীর ভান্ডারের (Lokkhir Bhandar) টাকা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেকার ভাতা যুবসাথী (Yuvasathi) শুরু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ভোট আসলেই রং, চিহ্ন নির্বিশেষে রাজনৈতিক দলগুলোর এই খয়রাতি নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)!
বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে ‘তোষণের’ রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এদিন তামিলনাড়ুর একটি মামলার শুনানিতে ইলেকট্রিসিটি অ্যামেন্ডমেন্ট রুলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তামিলনাড়ু পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের দায়ের করা একটি মামলা নিয়ে প্রিশ্ন ওঠে। আদালতে আলোচনার সময় বিদ্যুৎ পরিষেবায় ভর্তুকি ও ফ্রি পরিষেবা ঘোষণার আর্থিক প্রভাব নিয়েও পর্যবেক্ষণ করা হয়।
সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) প্রশ্ন তোলে, বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনের ঠিক আগে হঠাৎ উন্নয়নমূলক প্রকল্প, নগদ টাকা দেওয়ার স্কিম শুরু হয়েছে। সরাসরি নগদ সহায়তার স্কিম চালু হলে তার প্রভাব কর্মসংস্কৃতির উপর কী হতে পারে, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন, বলে সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। এভাবে অর্থ সাহায্য করলে মানুষ কি আর কর্মমুখী হবে?
প্রশ্ন তোলে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। বরিষ্ঠ আইনজীবী গোপাল সুব্রমণিয়মের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজ্যগুলির এ ধরনের প্রবণতা নিয়ে কখনও কখনও আদালত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তাঁর প্রশ্ন, দেশজুড়ে কি এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে পরিষেবার মূল্য দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
প্রসঙ্গত, ভোটের আগে খয়রাতি নিয়ে বরাবর সমালোচনা করে আসছেন বিশ্লেষকরা। যুবসমাজের হাতে ভাতার অর্থ ধরিয়ে পঙ্গু করার পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। সম্পদের সঠিক বন্টন নেই বলেই সাধারণ মানুষ অর্থসংকটে ভোগে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই ভাতা কোনও স্থায়ী সমাধান না। কর্মসংস্থান তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


