স্নেহা পাল, কলকাতা: মঙ্গলবার I-Pac কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ সকালেই I-Pac মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয় রাজ্য সরকার। হলফনামার মাধ্যমে ইডির দায়ের করা মামলা খারিজের আবেদন জানানো হয়। রাজ্যের দাবি, ২০২০ সালে কয়লা পাচার সংক্রান্ত এফআইআর দায়ের হলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনও তথ্য উঠে আসেনি। ইডি অযৌক্তিক ও অজানা কারণে তদন্তে বিলম্ব করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে আইপ্যাক মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে শুনানির শুরুতেই কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের কাছে সময় চান। তাঁর যুক্তি, রাজ্য সরকারের হলফনামা খতিয়ে দেখে জবাব দিতে আরও সময় প্রয়োজন।
এই প্রেক্ষিতে আদালত কেন্দ্রকে এক সপ্তাহ সময় দেয়। আগামী মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
রাজ্যের আরও দাবি, আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর ঠিক আগে দীর্ঘ বিরতির পর হঠাৎ তদন্ত পুনরায় শুরু করা হয়েছে। হলফনামায় বলা হয়েছে, ইডির তল্লাশির ক্ষেত্রে যথাযথ নোটিস দেওয়া হয়নি এবং সংস্থাটি তার ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছে।
হলফনামায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের দাবি অনুযায়ী, তল্লাশির সময় কিছু নথি সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি ইডি নিজেই দিয়েছিল এবং সেই সময় কোনও আপত্তি তোলা হয়নি। পাশাপাশি, তদন্তের নামে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালতের একাধিক নির্দেশের উল্লেখ করা হয়েছে।
আইপ্যাক ও ইডি সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে ‘হেভিওয়েট’ মামলা হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে। ইডি সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ও রাজ্যের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তোলে।
অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশ ইডির বিরুদ্ধে পালটা তিনটি এফআইআর দায়ের করে। আগের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট ওই তিনটি এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে এবং সব পক্ষকে নোটিস পাঠিয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এখন সব নজর আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির শুনানির দিকে।


