Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এবং প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যে আবারও সামনে এল বকেয়া DA বিতর্ক। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় নতুন মোড় এনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বকেয়া DA (Dearness Allowance) পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে শীর্ষ আদালতে নতুন করে সময় চেয়েছে রাজ্য সরকার। আবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রথম কিস্তির ২৫ শতাংশ DA সহ বকেয়া মেটানো সম্ভব নয়। রাজ্যের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ডিএ বকেয়ার দাবি জানিয়েছেন মোট ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৫৪ জন সরকারি কর্মচারী। প্রত্যেকের হিসাব যাচাই করে সঠিক বকেয়া নির্ধারণ করতে সময় লাগবে বলেই দাবি করা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রেও তথ্যসংগ্রহে জটিলতার কথা বলা হয়েছে। রাজ্যের বক্তব্য, সব পেনশনভোগীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাদের কাছে নেই। এই তথ্যের বড় অংশই সংরক্ষিত রয়েছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (CAG) দফতরে। ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত সময় লাগবে। DA গণনার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। ডিএ নির্ধারিত হয় অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী। কিন্তু ডিজিটাল বেতন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কেবল ২০১৬ সাল থেকে। তার আগের তথ্য জানতে হলে হাতে লেখা সার্ভিস বুক পরীক্ষা করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ বলে দাবি রাজ্যের।
রাজ্যের আবেদন অনুযায়ী, বকেয়া DA পরিশোধ অনেকটাই নির্ভর করছে রাজ্যের বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের উপর। পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কারণে এত স্বল্প সময়ে সমস্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা কঠিন বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে রাজ্য সরকার প্রথমে ২৫ শতাংশ DA সহ বকেয়া পরিশোধ করবে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের পর থেকেই আন্দোলনরত সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ–এর সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে। বিষয়টি নিয়ে তারা রাজ্য সরকারের উদ্দেশে একটি স্মারকলিপিও জমা দেন। যদিও সরাসরি নবান্নে গিয়ে তা জমা দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের মাধ্যমেই সেই স্মারকলিপি পাঠানো হয়। এদিকে বকেয়া ডিএ পরিশোধের ক্ষেত্রে নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে সময় চাওয়ার আবেদন জমা পড়ায় গোটা বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।


