কলকাতা: এ যেন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার ‘মেরিট লিস্ট’ (SIR final voter list)! ভারতের নাগরিক প্রমাণের পরীক্ষায় পাশ না ফেল? দুরুদুরু বুকে অনলাইনে নিজের নাম খুঁজতে বসে গিয়েছেন বঙ্গবাসী। দুপুরের পরই নির্বাচন কমিশনের মূল ওয়েবসাইট eci.gov.in, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের ওয়েবসাইট ceowestbengal.wb.gov.in এবং ইসি নেট অ্যাপে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা (SIR final voter list) দেখতে পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই তালিকা জেলাশাসকদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। এসডিও, বিডিও সহ বিএলও-দের কাছেও মিলবে তালিকার হার্ড কপি। এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: কোথায় কতজনের নাম বাদের খাতায়?
দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাঁকুড়ায় বাদ গিয়েছে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার নাম। উত্তর কলকাতায় বাদের ১৭ হাজার নাম। নদিয়ায় বাদ ৬০ হাজার নাম, অ্যাডজুডিকেশনে ২ লক্ষ ১৬ হাজার। কমিশন সূত্রে খবর। পুরো তথ্য সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে জানাবে সিইও দফতর। কোচবিহার, বাঁকুড়ায় টাঙানো হয়েছে তালিকা। কোচবিহারে প্রায় ২৭ হাজার নাম “অ্যাডজুডিকেশন”-এ রয়েছে।
বাঁকুড়ায় শুরু হয়ে গিয়েছে বিক্ষোভ!
এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকায় (SIR final voter list) বাঁকুড়ায় বাদ গিয়েছে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার নাম। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই বাঁকুড়ায় বিক্ষোভে নেমেছেন জনতা। তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন জনগণ। কাউন্সিলরের অভিযোগ, শাসকদলের ভোটারদের নাম চক্রান্ত করে বাদ দেওয়া হল! বিক্ষুব্ধ জনগণের অভিযোগ, নথি দেখানোর পরেও তালিকায় তাঁদের নামের পাশে “ডিলিটেড” লেখা। জেলাশাসকের কাছে গিয়ে প্রকৃত ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানাবেন বলে জানিয়েছেন নাম বাদ যাওয়া ওয়ার্ডের জনগণ।
“আতঙ্কিত হবে না”
“আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন” নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবী, বিজেপি অ্যাডজুডিকেশন নিয়ে আতঙ্ক ছড়াতে চাইছে। ৬০ লক্ষ নামের সুরাহা এখনও হয়নি। তাই তাঁদের নামের পাশে অ্যাডজুডিকেশন থাকবে। ধীরে ধীরে আরও তালিকা প্রকাশিত হবে। অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সজল ঘোষ বলেন, “যাঁদের নাম বাদ গেছে তাঁদের আর নাম ওঠার কোনও উপায় নেই। আর যাঁদের নামের সুরাহা হয়নি, তাঁরা ধৈর্য ধরুন। কিন্তু একজন অবৈধ ভোটারের নামও তালিকায় থাকবে না। আবার একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ যাবে না”।


