34.5 C
Kolkata
Monday, March 9, 2026
spot_img

এসএসসি গ্রুপ ডি পরীক্ষা: ১৪% প্রার্থী অনুপস্থিত , মোবাইল-সহ ধৃত পরীক্ষার্থী 

Aaj India Desk, কলকাতা: স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ -ডি পরীক্ষায় রবিবার উপস্থিতির হার ছিল চোখে পরার মত । মোট ৮ লক্ষ ১৭ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী আবেদন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেন প্রায় ৮৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী। ফলে প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার ৯৮০ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।এই পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৫,৪৮৮টি শূন্যপদে নিয়োগের কথা রয়েছে।

গত রবিবার গ্রুপ-সি পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন – সহ হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন ৫৭ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের অনেকেই গ্রুপ -সি র পাশাপাশি গ্রুপ- ডি পরীক্ষাতেও বসার জন্য আবেদন করেছিলেন। অসাধু উপায় অবলম্বনের অভিযোগে কমিশন কড়া পদক্ষেপ নিয়ে ওই ৫৭ জনের গ্রুপ-সি র পাশাপাশি গ্রুপ-ডি পরীক্ষাও বাতিল করে দেয়। শনিবার রাতেই তাঁদের অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং সব পরীক্ষা কেন্দ্রের ইনচার্জদের কাছে সেই তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়।তবে এত কড়াকড়ির পরেও রবিবার পরীক্ষার দিন বাঁকুড়া ও দক্ষিণ দিনাজপুর সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে আবারও মোবাইল ফোন সহ কয়েক জন পরীক্ষার্থী ধরা পড়েছেন।

রবিবার রাজ্য জুড়ে মোট ১,৭০৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় গ্রুপ ডি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভিন রাজ্য থেকেও বহু পরীক্ষার্থী অংশ নেন। মোট ৪,২০০ জন ভিন রাজ্যের প্রার্থী গ্রুপ ডি পরীক্ষায় বসার জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ঝাড়খণ্ড থেকেই এসেছিলেন হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী। পাশাপাশি বিহার থেকে প্রায় ৮৫০ জন এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রায় ৯০০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে রাজ্যে আসেন।

উত্তর কলকাতার মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজে পরীক্ষাকেন্দ্রে বসেছিলেন বিহারের বাসিন্দা প্রিয়া। তাঁর কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলে নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে শুনেই এখানে এসেছি। বিহারে গত কয়েক বছরে সে ভাবে সরকারি স্তরে নিয়োগ পরীক্ষাই হয়নি।’

পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) ও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে লেখেন, অন্যান্য রাজ্য থেকেও বহু পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের প্রার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতি ,ধর্ম ,বর্ণ নির্বিশেষে বাংলা আজ সকলের ভরসার জায়গা।

অন্য দিকে, প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি দুটি পরীক্ষাতেই অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মতে, গ্রুপ ডি পরীক্ষার তুলনায় গ্রুপ সি প্রশ্নপত্র তুলনামূলক সহজ ছিল। রাজারহাটের প্রিয়াঞ্জনা গোলদার জানান, ‘ভয় তো আছেই। তবে স্বচ্ছ নিয়োগ হলে এই পরীক্ষার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার আশা রাখছি। যদিও যাঁরা আগে থেকেই চাকরিতে ছিলেন, তাঁরা অতিরিক্ত ৫ নম্বর পাবেন সেটা একটা বাড়তি সুবিধা।’ মালদার রিমিল সরেনের পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছিল মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজে। তিনি বলেন, ‘আমি উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় এসেছি। গ্রুপ সি পরীক্ষাও দিয়েছিলাম। আমার মতে, গ্রুপ ডি র তুলনায় গ্রুপ সি প্রশ্ন অনেক সহজ ছিল। ভালো করে পড়াশোনা না করলে এ দিনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ নয়। তবুও আশাবাদী, ইন্টারভিউয়ের ডাক পেতে পারি।’

তবে পরীক্ষা দিতে আসার পথে কিছু পরীক্ষার্থীকে সমস্যার মুখেও পড়তে হয়েছে। রবিবার হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন শাখায় বহু লোকাল ট্রেন বাতিল ছিল। নদিয়ার বড়জাগুলিয়া থেকে কলকাতায় পরীক্ষা দিতে আসা পলাশকুমার ঘোষ জানান, ‘আগেই সংবাদমাধ্যমে ট্রেন বাতিলের খবর দেখে ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম। তাই বড় সমস্যা হয়নি।’ যদিও অনেকেই অভিযোগ করেছেন, হাওড়া ডিভিশনে ট্রেনের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন