স্নেহা পাল, পূর্ব বর্ধমান: রবিবার জেলাশাসকের দপ্তরে সামনে SIR প্রক্রিয়ায় হয়রানির প্রতিবাদে অনশনে বসেছেন তৃণমূলের আদিবাসী সেলের চেয়ারম্যান দেবু টুডু (Debu Tudu)।
SIR প্রক্রিয়ার শুনানিতে ডাক পড়েছে প্রায় ১০ হাজার আদিবাসী ও তফশিলিদের। দেবু টুডুর (Debu Tudu) অভিযোগ, আদিবাসীদেরকে শুনানিতে ডেকে অযথা আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আদিবাসীরা ভারতের আদি বাসিন্দা এবং তাঁদের ভোটাধিকার প্রমাণ করতে কাগজ দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই সিধু–কানু ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশে বসে তিনি ও তাঁর অনুগামীরা অনশন শুরু করেছেন।
অনশনে বসে দেবু টুডু (Debu Tudu) স্পষ্ট বলেন, একজন আদিবাসীর নামও যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে আদিবাসী সমাজ। তাঁর বক্তব্য, এটি তাঁদের সাংবিধানিক অধিকারের লড়াই। তিনি আদিবাসী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান।
অনশন ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, কটাক্ষে বিজেপি
অন্যদিকে, অনশনের খবর সামনে আসতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র। তিনি দাবি করেন, আদিবাসীদের দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার “তেজপাতার মতো ব্যবহার” করেছে। তাঁর অভিযোগ, আদিবাসীদের প্রকৃত সমস্যা নিয়ে রাজ্য সরকার কখনই আন্তরিক ছিলেন না। দেবু টুডুকে (Debu Tudu) কটাক্ষ করে মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “তিনি একজন কুখ্যাত নেতা। নিজের স্বার্থে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন।” তাঁর বক্তব্য, যদি কারও আপত্তি থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের কাছে তা জানানো যেতে পারে। কিন্তু কাগজ দেখাব না বলে আবেগ তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
SIR ইস্যুতে এর আগেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন আগে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান-১ ব্লকে এক সভায় তৃণমূলের এক প্রাক্তন জেলা নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়। আবার আদিবাসীদের জন্য এই অনশনের ঘোষণা আরেকটি বিতর্ক সৃষ্টি করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


