Aaj India Desk, নদিয়া : নদিয়ার কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলায় প্রার্থী ঘোষণার পরেই একাধিক আসনে একের পর এক অদলবদল হয়। এই আবহেই নদিয়ার কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলায় পূর্ণ দখলের লক্ষ্যে নামল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার আটটি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। দু’টি ক্ষেত্রে প্রার্থীদের আসনও অদলবদল হয়েছে, যা ঘিরে স্থানীয় স্তরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার আটটি আসনের মধ্যে সাতটিতে জয় পায় তৃণমূল। একমাত্র কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে জয়ী হন বিজেপির প্রয়াত নেতা মুকুল রায়। এবার সেই আসনে নতুন মুখ হিসেবে প্রার্থী করা হয়েছে অভিনব ভট্টাচার্যকে।
অন্যদিকে, চাপড়া কেন্দ্রের প্রার্থী রুকবানুর রহমানকে সরিয়ে পলাশিপাড়ায় পাঠানো হয়েছে। গতবার এই কেন্দ্রে প্রার্থী ছিলেন মানিক ভট্টাচার্য, যাঁর নাম শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়ানোর অভিযোগে উঠে আসে। ফলে তাঁকে টিকিট না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। করিমপুরে জয়ী প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়ের বদলে এবার প্রার্থী হয়েছেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। দলীয় সূত্রে দাবি, এই আসন তুলনামূলকভাবে ‘নিরাপদ’ এবং এখানে সাংসদের প্রভাব রয়েছে। এছাড়া তেহট্টে প্রার্থী হয়েছেন দিলীপ পোদ্দার, আর কালিগঞ্জে উপনির্বাচনে জয়ী আলিফা আহমেদকে পুনরায় প্রার্থী করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ ও নাকাশিপাড়ায় প্রার্থী অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বৈঠকের পর তৃনমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) মহুয়া মৈত্র জানান, “রবিবার থেকে সব কেন্দ্রেই প্রচার শুরু হবে। এখন ফল ৭-১, সেটাকে ৮-০ করতে হবে।” পাশাপাশি ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার কাজও শুরু হবে বলে জানান তিনি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রার্থী বদলের মাধ্যমে একদিকে বিতর্কিত মুখ সরানো, অন্যদিকে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। তবে এতে সংগঠনের ভিতরে অসন্তোষ বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে এই ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


