কলকাতা: গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ধর্মতলা থেকে কালীঘাট মহামিছিলের মুখ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ (Sangrami Joutha Mancha) চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিল, “আজ সেমিফাইনাল, ১৩ মার্চ ফাইনাল! মুখ্যমন্ত্রী মনে রাখবেন।” ওইদিন প্রায় ৫০-এর বেশি সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনের হাজারও সদস্য কালীঘাট মহামিছিলের জন্য ধর্মতলায় উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের ডোরিনা ক্রসিং-এই আটকে দেয় পুলিশ।
ওইদিন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের (Sangrami Joutha Mancha) অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে বলেছিলেন, “উনি সময় নষ্ট করছেন। মার্চ থেকেই রাজ্যে ভোটের দামাম বেজে যাবে। আর মানুষ ভুলে যাবেন ভাবছেন। কিন্তু আজকের এই আন্দোলনকে আমরা আগামীতে এগিয়ে নিয়ে যাব। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না মানা পর্যন্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ডিএ আন্দোলন (DA Protest) চালিয়ে যাবেন”।
সেই ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল ধর্মঘটের (Strike) ডাক দিয়েছে কো-অর্ডিনেশন কমিটির যৌথ মঞ্চ, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এবং কর্মচারী পরিষদ। এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনও। তবে সব জরুরী পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ধর্মঘটের (Strike) আহ্বায়করা। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ধর্মঘটকে বানচাল করতে তৎপর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। শাসকদল ঘনিষ্ঠ এই সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে স্কুল, কলেজ, অফিস খোলা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাঁরা বদ্ধপরিকর।
কামাই করলেই “শো-কজ”
অন্যদিকে, আগামীকাল স্কুল, কলেজ, অফিস, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেই সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে নবান্ন (Nabanna)। অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ওই দিন সব রাজ্য সরকারি ও সরকার-পোষিত দফতর খোলা থাকবে এবং পূর্ণ বা অর্ধদিবসের ছুটি গ্রাহ্য করা হবে না।
তবে আচমকা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, আগে থেকে নেওয়া চাইল্ড কেয়ার লিভ, আর্নড লিভ বা চিকিৎসাজনিত ছুটি—এই সব ক্ষেত্র নির্দেশিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এর বাইরে কেউ ওই দিন ছুটি নিলে শো-কজ নোটিসের মুখে পড়তে হবে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, জবাব সন্তোষজনক না হলে সেই দিনের ছুটি বাতিল করা হবে, মিলবে না বেতনও। এমনকি ওই দিনকে ‘ডায়েস নন’ হিসেবে গণ্য করে কর্মজীবন থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে নবান্ন।


