Aaj India Desk, কলকাতা : ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ। ISF প্রার্থী হিসেবে নওশাদ সিদ্দিকীর নাম ঘোষণা হতেই স্পষ্ট, তৃণমূলের শওকত মোল্লার সঙ্গে এবার মুখোমুখি লড়াই অনিবার্য। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র আক্রমণ–প্রতিআক্রমণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা।
সোমবার ফুরফুরা শরিফ থেকে ISF প্রথম দফার ২৩ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় ভাঙড় থেকে ফের প্রার্থী করা হয় নওশাদ সিদ্দিকীকে। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের রেখা স্পষ্ট হয়ে যায়।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস আগেই ভাঙড়ে প্রার্থী করেছে শওকত মোল্লাকে। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত বহুদিন ধরেই ভাঙড়ের রাজনীতিতে প্রভাবশালী মুখ। ফলে এই কেন্দ্রে দুই শক্তিশালী নেতার সরাসরি সংঘর্ষ তৈরি হয়েছে।
প্রার্থী ঘোষণার পর নওশাদ সিদ্দিকী প্রকাশ্যেই তৃণমূল নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, ভাঙড়ে লড়াই হবে জমি ও মানুষের অধিকার নিয়ে। তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এই লড়াইকে আরও জটিল করেছে আরাবুল ইসলামের প্রবেশ। একসময়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল এবার আইএসএফের হয়ে ক্যানিং পূর্বে প্রার্থী। শওকত ও আরাবুলের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এই নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আইএসএফ ও বামেদের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন চললেও বেশ কিছু আসনে ইতিমধ্যেই সমঝোতা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। তবে ভাঙড়ে লড়াই সম্পূর্ণভাবে সরাসরি এবং উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। এদিকে ভোটের আগে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হওয়ায় সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ভাঙড়ে শওকত বনাম নওশাদের এই সরাসরি লড়াই এখন রাজ্যের নির্বাচনের অন্যতম কেন্দ্রীয় আকর্ষণ।


