Aaj India Desk, কলকাতা: রাজনীতির ময়দানে শব্দেরও আলাদা ভাগ্য থাকে। কোথাও সেটি “কল্যাণমূলক প্রকল্প” (Cash Incentive Scheme), কোথাও “সামাজিক সুরক্ষা”, আবার কোথাও একই জিনিসকে বলা হয় “ভাতা”।
দেশের একাধিক রাজ্যে, বিশেষত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের জন্য নগদ সহায়তার প্রকল্প (Cash Incentive Scheme) চালু করেছে বিভিন্ন সরকার। দিল্লিতে চালু হওয়া ‘মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা’ (পূর্বে মুখ্যমন্ত্রী মহিলা সম্মান যোজনা) অনুযায়ী অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মহিলারা প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে পান। উত্তরপ্রদেশে ‘মুখ্যমন্ত্রী কন্যা সুমঙ্গলা যোজনা’-র মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বাধিক দুই কন্যার জন্য মোট ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। জন্ম, টিকাকরণ, স্কুলে ভর্তি এবং উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ধাপে এই অর্থ প্রদান করা হয়। গতকাল অসম ও মণিপুর সরকারও মহিলাদের জন্য নগদ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের প্রকল্পের উদ্দেশ্য সাধারণত মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো।
একই ভাবে পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের আওতায় সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি শ্রেণির মহিলারা ১,২০০ টাকা করে পান।
একাধিক রাজ্যে মহিলা কেন্দ্রিক অর্থ প্রদানকারী সরকারি প্রকল্প থাকলেও বিতর্কের কেন্দ্রে বারবার উঠে আসছে কেবল পশ্চিমবঙ্গের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’। বিরোধী বিজেপি দল দীর্ঘদিন ধরেই এই নগদ সহায়তার প্রকল্পকে (Cash Incentive Scheme) ‘ভাতার রাজনীতি’ বলে সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের প্রকল্প রাজ্যের আর্থিক চাপ বাড়ায় এবং ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। একই ধরনের প্রকল্প অন্য রাজ্যে কল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও, বাংলায় এলেই তা “ভাতা” তকমায় আটকে যায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে ভোট রাজনীতির প্রভাব। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট ব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে টানতেই বিরোধীদের প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।


