Aaj India Desk, পশ্চিম বর্ধমান : নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসতেই পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়েছে শাসক দল। এর মধ্যেই শনিবার রানিগঞ্জের নির্বাচনী সভা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
কী কী প্রতিশ্রুতি দিলেন ?
রানিগঞ্জে নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানান, ভূমিধসপ্রবণ খনি এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলির জন্য বড় আর্থিক ও পুনর্বাসন প্যাকেজ তৈরি করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে এলে পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং দুটি ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ইতিমধ্যে ২,০০০টি ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে এবং আরও ৪,০০০টি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে জোর না করে আবেদন রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমি কাউকে জোর করছি না, অনুরোধ করছি, আরেকবার ভাবুন। বড় ভূমিধস হলে হাজার হাজার মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।” তিনি আরও জানান, বাড়ি বদলের সমস্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে। তিনি বলেন, “মানুষের জীবনের থেকে মূল্যবান কিছু নেই। আমরা চাই না কেউ বিপদের মধ্যে থাকুক।”
পুরনো প্রকল্পের অভিজ্ঞতা
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুখে এই ধরনের বড় আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণাকে অনেকেই ভোট-কেন্দ্রিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন। অতীতে খনি অঞ্চলে দুর্ঘটনা, ফাটল বা বসে যাওয়া জমি নিয়ে বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বাস্তবায়নে গতি ছিল ধীর। ফলে এইবারেও ঘোষণা এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কতটা প্রযোজ্য হবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন রানিগঞ্জবাসী।
একই সঙ্গে, পূর্ববর্তী সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির বাস্তব চিত্রও সামনে আসছে। সম্প্রতি যুব বেকারদের জন্য মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee) ঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা এখনো কতজন বাস্তবে পেয়েছেন, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নীতিগত ঘোষণা এবং মাটির স্তরে বাস্তবায়নের মধ্যে যে ব্যবধান থাকে, সেটিই এখানে মূল উদ্বেগ। ফলে নতুন করে ১০ লক্ষ টাকা ও দুটি ফ্ল্যাটের প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং সময়সীমা মেনে বাস্তবায়নের উপর। এই ঘোষণার বাস্তব ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে যে এটি সত্যিই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ, নাকি অন্যান্যবারের মতো আবার কোনো নির্বাচনী কৌশল মাত্র।


