Aaj India Desk, বাঁকুড়া: পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া -রানিগঞ্জ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। সোমবার ভোরে গঙ্গাজলঘাঁটি পালেরবাঁধ মোড়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় (Accident) প্রাণ হারালেন ৩৮ বছর বয়সী শ্রীরাম ঢ্যাং, মেজিয়ার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও কোনও ঠিকমতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
হতাহত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত প্রতিবাদে নেমে যান জাতীয় সড়ক অবরোধ করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, ‘কত মানুষকে আরও প্রাণ দিতে হবে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য?’ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হলেও এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দুর্ভলপুরের একটি বেসরকারি কারখানায় কাজ করতেন। রবিবার রাতে নাইট শিফটে কাজ শেষে সোমবার সকালে সাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ঠিক সেই সময়ে, সিমেন্ট বোঝাই একটি লরি তাকে ধাক্কা মারলে (Accident) গুরুতর আহত হন শ্রীরাম। আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। আশ্চর্যের বিষয়, লরির চালক পালিয়ে যান কোনও সাহায্য বা দায় স্বীকার না করে। স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং প্রতিবাদের সামিল হয় ।
নিরাপত্তাহীন সড়ক ও দোষী চালকের পলায়নের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ‘ বার বার দুর্ঘটনার (Accident) পরও পর্যন্ত পথ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না?’
দুর্ভাগ্যজনক পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শ্রীরাম ঢ্যাংকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় প্রবল চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়ক বহুবার প্রাণহানির জন্য পরিচিত। বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শ্রীরামের মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা বলছেন, ‘পুলিশের গাফিলতির কারণে লরির চালক এখনও আটক হয়নি। দোষীকে ধরার বদলে আমাদের প্রতিবাদকে দমন করা হচ্ছে।’ স্থানীয়রা জেলাশাসক বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সরাসরি হস্তক্ষেপ না আসা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।


