Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে দেশে রান্নার গ্যাসের বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে গ্যাসের বুকিং হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার মধ্যেই সামনে এসেছে কালোবাজারির (black marketing of LPG) অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে বাজারে গ্যাসের সরবরাহ ও দামের ওপর নজরদারি বাড়াতে বর্ধমান শহরসহ একাধিক জেলাজুড়ে একযোগে অভিযান চালাল জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (DEB)।
বৃহস্পতিবার সকালে গ্যাস ডিলারের অফিস ও গুদাম মিলিয়ে অন্তত ২০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক আছে কি না এবং গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। সরকারি নথিতে যত সিলিন্ডারের হিসাব রয়েছে, বাস্তবে তার থেকে বেশি মজুত রাখা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না, তাও যাচাই করা হয়। একাধিক জায়গায় LPG গ্যাসের কালোবাজারির (black marketing of LPG) অভিযোগ ওঠায় তা নিয়ে তদন্তও করছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ।
অভিযানের সময় গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি LPG সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৪০ (+ ৬০) টাকা। অন্যদিকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৯০.৫০ টাকা।
তবে বিভিন্ন শহরে কালোবাজারে এই সিলিন্ডারের দাম অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে গৃহস্থালি সিলিন্ডার ১০০ থেকে ১৫০ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ছোট খাবারের দোকান বা রাস্তার ধারের খাবারের স্টলগুলো এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকাতেও গ্যাস বুকিং হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তেল শিল্প সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের মধ্যেই বুকিংয়ের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং মধ্যস্বত্বভোগী কালোবাজারে (black marketing of LPG) সিলিন্ডার বিক্রি করছে বলে অভিযোগ।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারে সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে আগামী দিনেও একই ধরনের অভিযান চালানো হবে।


