স্নেহা পাল, পশ্চিম মেদিনীপুর : এর আগে ব্যারাকপুরে TMC স্থানীয় কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথের লাথিতে মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধের। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি ব্লকের আরেকটি নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এবার রোগী দেখতে বাড়িতে যেতে অস্বীকার করায় এক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের এক আঞ্চলিক নেতার বিরুদ্ধে।
সোমবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্ণগড় অঞ্চলের সভাপতি কাঞ্চন চক্রবর্তীর এক আত্মীয় অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে দেখতে যাওয়ার অনুরোধ জানাতে ওই নেতার এক আত্মীয় স্থানীয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক নীখিল রঞ্জন ঘোষের চেম্বারে যান।
চিকিৎসকের দাবি, তিনি অসুস্থতার কারণে বাড়িতে গিয়ে রোগী দেখেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন।
এরপর কাঞ্চন চক্রবর্তী নিজে চেম্বারে এসে চিকিৎসকের কলার ধরে মারধর করেন এবং জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
চিকিৎসক নীখিল রঞ্জন ঘোষের বক্তব্য, “আমি জানিয়েছিলাম, কোভিডের পর থেকে চেম্বার ছেড়ে কোথাও যাই না। আমার স্বাস্থ্যের অবস্থাও ভালো নয়। তখন তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসে আমার কলার ধরে মারধর করেন।”
চিকিৎসক আরও জানান, পরে তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে দেখেন রোগীর মৃত্যু অনেক আগেই হয়েছে। এর পরেও মৃতদেহ তাঁর বাড়ির সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে অভিযোগ।
তবে তৃণমূল (TMC) নেতা কাঞ্চন চক্রবর্তী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি শঙ্কর গুচাইত বলেন, “একজন চিকিৎসকও আজ নিরাপদ নন। অভিযুক্ত তৃণমূলের দায়িত্বশীল নেতা। এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়।”
এই ঘটনায় শালবনি থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।


