নদিয়া: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রথম তালিকাতেই কালীগঞ্জে (Kaliganj) তামান্নার মা-কে প্রার্থী করেছে সিপিএম (CPM)। তৃণমূলের উপনির্বাচনের বিজয় মিছিলের জেরে একরত্তি মেয়েকে হারিয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে গেছে সিপিএম। মানসিকভাবে একটা সময় এতটাই বিধ্বস্ত ছিলেন, যে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছিলেন তামান্নার মা সাবিনা (Sabina Yasmin)।
বিধানসভা ভোটে শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাহস দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই কোল খালি হওয়া লড়াকু মা-কেই প্রার্থী হিসেবে চায় না কালীগঞ্জের একাংশ স্থানীয়। সোমবার বিকেলে আলিমুদ্দিনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন বিমান বসু। আর মঙ্গলেই কালীগঞ্জে (Kaliganj) সিপিএমের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা সামনে উঠে এল। জানা গিয়েছে, এদিন সিপিএমের স্থানীয় একদল কর্মী পার্টি অফিসে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে তাণ্ডব চালায়।
তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে (Sabina Yasmin) প্রার্থী হিসেবে মানতে নারাজ তাঁরা। তাঁদের দাবী, সাবিনা ইয়াসমিন (Sabina Yasmin) সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন, সিপিএমের (CPM) সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। এই কারণে তাঁকে সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে মানবে না স্থানীয় কর্মীরাই। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। যদিও, এই বিষয়ে এখনও কিছু বলেননি সাবিনা ইয়াসমিন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৩ জুন, কালীগঞ্জ (Kaliganj) উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের বিজয়োৎসব মিছিল দেখছিল ১০ বছরের খুদে মেয়েটি। ওই মিছিল থেকেই বোমা বিস্ফোরণে না ফেরার দেশে চলে যায় ছোট্ট তামান্না। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের পাশে থেকেছে লাল শিবির। তামান্নার হয়ে মিছিল, প্রতিবাদ জানিয়েছে বামেরা। তামান্নার মা-ও নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার জল্পনা চলাকালীন বলেছিলেন, “জানি সিপিএম ক্ষমতায় নেই। কিন্তু আমার মেয়েকে বিচার দেওয়ার জন্য লড়াই করছে তাঁরা।”
বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারির জন্য সিপিএমের (CPM) উপরই ভরসা দেখিয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি এসআইআরে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে কলকাতায় সিপিএমের অবস্থান কর্মসূচীতেও অংশ নিয়ে দেখা যায় তাঁকে। সোমবার সেই সাবিনা ইয়াসমিনকে কালীগঞ্জের প্রার্থী হচ্ছেন, “শহিদ কন্যার মাতা” বলে উল্লেখ করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।


