Aaj India Desk, হুগলি : হুগলির পুরশুরা (Purshura) বিধানসভার সাহাবাগ এলাকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের তালিকায় বাতিল হয়েছে প্রায় ১৯৫ জন ভোটারের নাম। এই অবস্থায় আতঙ্কিত ভোটারদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে সবরকম আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন সিপিএম প্রার্থী সন্দীপ সামন্ত।
বিনামূল্যে আইনি সহায়তার প্রতিশ্রুতি
বৃহস্পতিবার পুরশুরার (Purshura) বুথ ৫২ ও ৫৩-এর বাসিন্দারা গ্রামে একত্রিত হয়ে তাদের সমস্যা তুলে ধরেন। অনেকের অভিযোগ, নামগুলি নির্বাচিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোটাররা সিপিএম কর্মী ও সমর্থকদের ঘিরে ধরে তাদের অসুবিধার কথা জানান। সন্দীপ সামন্ত সেখানে বলেন, “আমরা ভোট চাইতে আসিনি। আপনারা যাকে খুশি ভোট দেবেন। কিন্তু সিপিএম দল ট্রাইবুনালের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করেছে। তারা আপনাদের বিনামূল্যে সহায়তা করবে। প্রথমে ভোটাধিকার ফিরিয়ে নিন, তারপর ভোটের কথা হবে।” তিনি আরও জানান যে নির্বাচনের ফল যাই হোক, এই বাতিলের পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার উভয়ই দায়ী।
সিপিএম প্রার্থী সন্দীপ সামন্তের সঙ্গে ছিলেন পার্টির নেতা উত্তম সামন্ত, কাজী আব্দুল রউপ এবং আরও কয়েকজন নেতা। তারা হরিনখোলা গ্রামপঞ্চায়েত ১ নং এলাকায় সাহাবাগ, হরদিত্য, মায়াপুর সহ অন্যান্য গ্রামে ঘুরে জনসাধারণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে জনগণের সঙ্গে হাত মেলান এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাজ্যজুড়ে SIR-এর প্রভাব
উল্লেখ্য, পুরশুরার (Purshura) মতো সমস্যা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে SIR প্রক্রিয়ায় রাজ্যে ৬৩ লক্ষেরও বেশি নাম বাতিল হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি বাতিল, এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা। নদিয়ায় প্রায় ২.৭৩ লক্ষ, বাঁকুড়ায় ১.১৮ লক্ষ, হুগলিতে ৩.৩৪ লক্ষ এবং আলিপুরদুয়ারে ১.০২ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ব্লকে বামফ্রন্টের তরফে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। মালদহের ইংরেজবাজারেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের প্রতিবাদে ঝাঁটা মিছিল হয়েছে। অনেক জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দারা নথি থাকা সত্ত্বেও নাম বাতিল হওয়ায় উদ্বিগ্ন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নাম বাতিলের কারণ মৃত্যু, স্থানান্তর, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি এবং যাচাইয়ে অংশ না নেওয়া। পাশাপাশি কমিশন থেকে জানানো হয়েছে যে যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেও আপিল করা যাবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার স্থায়ীভাবে কেড়ে নেওয়া যাবে না। পুরশুরা কেন্দ্রে সন্দীপ সামন্ত আশ্বাস দিয়েছেন, ভোটাধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সহযোগিতা চলবে। স্থানীয় ভোটাররা এই আশ্বাসে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত এই আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হয় সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


