কলকাতা: কেন্দ্রের এনআরসি, সিএএ থেকে শুরু করে ওয়াকফ আইন সংশোধন কিংবা এসআইআর (SIR)! প্রতিটি ইস্যুতেই বাংলায় কার্যকর হতে দেবে না বলে বারবার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নির্দেশ জারি হয়েছে, আর তার মাশুল গুনেছে সাধারণ মানুষ! বিক্ষোভ, অবস্থান, অশান্তি, এমনকি প্রাণহানির মধ্য দিয়ে।
ইদের মঞ্চ থেকেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে মানুষের ঢাল হিসেবে তুলে ধরেছেন, দাবি করেছেন তিনি লড়ছেন মানুষের অধিকার রক্ষায়। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই সংঘাত, আশঙ্কা আর আতঙ্কের আবহে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও উদ্বেগ কি আদৌ কমেছে? একদিকে শাসক, অন্যদিকে বিরোধীদের তীব্র রাজনৈতিক লড়াই আর মাঝখানে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ, যাদের ভয় আর ভবিষ্যৎ যেন কারও অগ্রাধিকার নয়।
উদ্বেগ থেকে কি অশান্তি হতে পারে?
এসআইআরের (SIR) জেরে রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা নেহাতই কম নয়। সে বিএলও হোক অথবা বাস্তুহারা হওয়ার আতঙ্কে থাকা বৃদ্ধ। তবুও এসআইআর (SIR) হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হতে দেব না’-হুঁশিয়ারিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে। তার প্রথম অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকাও বেরিয়েছে। যাতে ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষের ভোটারাধিকারের ভাগ্য আদালতের আঙিয়ায় নিষ্পত্তির অপেক্ষা করছে। সোমবার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি বা অরিতিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। তার আগে অশান্তির আশঙ্কা করে জেলাশাসকদের সতর্ক করেছে নবান্ন।
স্বাভাবিকভাবেই আদর্শ আচরণ বিধি চলাকালীন অশান্তি মোটেও কাম্য নয়। কিন্তু অশান্তি করেও কি কোনও লাভ হবে? এর আগে সিএএ-বিরোধী আন্দোলন করেছে বাংলা। ওয়াকফ সংশোধনী আইনের জেরে আগুন জ্বলেছে মুর্শিদাবাদে। কারও প্ররোচনা হোক, বা নিজেদের ক্ষোভ, যে কারণেই যে কোনও সম্প্রদায়ের মানুষ অশান্তি করুক না কেন, তার ফল ভোগ করতে হয় তাঁদেরকেই।


