Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের আবহে তপ্ত রাজ্য। এর মধ্যেই একটি জনসভায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মন্তব্যে ফের তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ধর্ষণ মামলার প্রসঙ্গ তোলেন। সেই সময় তিনি বলেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে এলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, তিনি ধর্ষকদের “সকালে জমা” নেবেন, “বিকেলে খরচ” করবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, তিনি যোগী আদিত্যনাথ এবং হেমন্ত বিশ্ব শর্মার দেখানো পথ অনুযায়ীই চলছেন।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, একজন সাংবিধানিক পদে থাকা জনপ্রতিনিধির মুখে এ ধরনের ভাষা শুধু আইনবিরোধী নয়, তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যও উদ্বেগজনক। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী অপরাধের বিচার ও শাস্তি নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা আদালতের। কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতা সরাসরি শাস্তি কার্যকর করার কথা বললে তা আইনের শাসনের নীতির সঙ্গে অসঙ্গত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ফৌজদারি আইনে ‘হুমকি’ বা সহিংসতার উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিধান রয়েছে। যদিও বাস্তবে এই ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রয়োগ কতটা হবে, তা নির্ভর করে প্রমাণ, প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক উদ্যোগের উপর।
শুভেন্দুর মন্তব্যে কীসের ইঙ্গিত ?
পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি যোগী এবং হেমন্ত বিশ্ব শর্মার পদচিহ্ন অনুসরণ করছেন। তবে কি তাঁদের প্রশাসনিক কড়াকড়ির উদাহরণ টানতেই এই মন্তব্য, নাকি অন্য কোনও ইঙ্গিত রয়েছে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে।
কমিশনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
তবে এই বিতর্কিত মন্তব্যের পরেও ইলেকশন কমিশন এবং বিচারব্যবস্থার তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ বা প্রকাশ্য মন্তব্য সামনে আসেনি। এই নীরবতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন পর্যবেক্ষকরা। নির্বাচনকালীন সময়ে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পরিচিত কমিশন এ ক্ষেত্রে কেন চুপ তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।
ভারতে ধর্ষণের মতো অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে। তবে সেই শাস্তি কার্যকর হয় শুধুমাত্র বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মঞ্চে ‘তাৎক্ষণিক শাস্তি’ বা ‘খুন’ করার প্রসঙ্গ তোলা হলে তা আইনি ও নৈতিক বিতর্ক উসকে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসমক্ষে দেওয়া এই ধরনের বক্তব্য সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বক্তৃতার ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো ও নজরদারির সীমা কোথায়, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে, নির্বাচনের আবহে জননেতাদের বক্তব্য কতটা সংযত ও আইনসম্মত হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নও আরও জোরালোভাবে উঠে আসছে।


