Aaj India Desk ,কলকাতা: বসন্তের আগমণে এবারের দোল‑হোলি (Dolyatra) উৎসবের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে শহরজুড়ে। কেবল মানুষের মুখেই নয়, শহরের বাজারগুলোতেও রঙ আর আবিরের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যের রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাথে সাধারণ পোশাকের দোকানগুলো দোল উৎসবের রঙ, পিচকিরি ও জলের বন্দুক বিক্রির কেন্দ্র হিসাবে রূপান্তরিত হয়েছে।
মনোজ পাশোয়ান জানান, ‘এটা কামান, মানে ওয়াটার ক্যানন। পাঁচ লিটার রঙ ধরবে’, — ‘কামান’ নামে পরিচিত এই পানি বন্দুকটি এখন দোল খেলায় তরুণদের অন্যতম আকর্ষণ।
বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বাজারে প্রচলিত পিচকিরির পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইনের জলকমান, ‘ওয়াটার গান’ ও এমনকি ‘লেজার স্নাইপার গান’ দেখা যাচ্ছে, যেখানে নলটির নিচে লেজার পয়েন্টার রয়েছে, ফলে রঙ কোথায় লাগবে সেটা আরও নির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। এর দাম কিছুটা বেশি হলেও তরুণদের আগ্রহ এতে কম নয়।
ঐতিহ্যবাহী রঙের আনন্দ এখনো অটুট – বাজারে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ‘ছোট ভীমের গদা’, ‘পরশুরামের কুঠার’ এবং ‘শিবের ত্রিশূল’ নামে পিচকিরি যা ব্যাটারি‑চালিত নয় কিন্তু মজা ও রঙের ঝলক বহন করে।
রঙ, আবির ও লোকজ উৎসবের ছোঁয়া
রঙের সাথে আবিরের পাশাপাশি এবার বাজারে রাজস্থানি স্টাইলে তৈরি পাগড়িও বেশ জনপ্রিয়। লাল ও সবুজ আবির সকলের প্রিয় হলেও আজকাল গেরুয়া, হলুদ ও নীল রঙের আমদানি কম নয়। পাশাপাশি অস্বাভাবিক রঙ যেমন সাদা, তুঁতে বা গোলাপি আবিরের চাহিদাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে, শহরের মানুষের মধ্যে উৎসব উদযাপনের অনুভূতি স্পষ্ট বাজারে রঙের প্যাকেট, রেডিমেড পিচকিরি ও ঝাঁপিয়ে খেলার সরঞ্জামের জন্য ক্রেতারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
দোল ও হোলি (Dolyatra) শুধুই রঙ খেলাই নয় , এটি বসন্তের আগমন, আনন্দ, বন্ধুত্ব ও সামাজিক মিলনের উৎসব, যা প্রতিটি বছর একটু নতুন ছন্দে উদযাপিত হয়।


