Aaj India Desk, বাঁকুড়া : বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের উত্তপ্ত বাঁকুড়া (Bankura) জেলা। বাঁকুড়া বিধানসভার কালপাথর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুশতোড়া গ্রামে তৃণমূলের বুথ সভাপতি সহ প্রায় শতাধিক কর্মী ও সমর্থক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি বিজেপির। ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়ার (Bankura) গ্রামে আয়োজিত একটি দলীয় অনুষ্ঠানে কুশতোড়া গ্রামের তৃণমূল বুথ সভাপতি নন্দলাল সহ প্রায় একশোর বেশি কর্মী ও সমর্থক বিজেপির পতাকা হাতে নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নিলাদ্রী শেখর দানা। দলবদলের আগে তিনি তাঁদের গায়ে উত্তরপ্রদেশের কুম্ভ থেকে আনা গঙ্গার জল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ‘ করেন এবং হাতে গীতা তুলে দেন। এরপর বিজেপির পতাকা হাতে তুলে দিয়ে তাঁদের দলে স্বাগত জানানো হয়। বিজেপি বিধায়ক নিলাদ্রী শেখর দানা বলেন, “গঙ্গাজল ছিটিয়ে তাঁদের পাপ শুদ্ধিকরণ করে তারপর আমাদের পরিবারে সামিল করা হয়েছে। আগামী দিনে তাঁরা উন্নয়নের পথে সামিল হতে চান।”
দলবদলকারী নন্দলালের দাবি, কৃষিপ্রধান ওই গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সেচের জন্য একটি পুকুর খননের দাবি জানানো হলেও তা পূরণ হয়নি। সেই কারণেই গ্রামবাসীদের একাংশ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে তৃণমূল এই দাবি অস্বীকার করেছে। তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য মধুসূদন ডাঙরের বক্তব্য, “এ ধরনের কোনও কর্মী আমাদের দলে রয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। ভোটের আগে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে বিজেপি যোগদানের নাটক করে।”
তবে এই ঘটনাকে গত মাসের দল বদলের ঘটনারই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক মহল। গত মাসে বাঁকুড়াতেই (Bankura) বিজেপি থেকে তৃনমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন প্রায় ২০ পরিবারের শতাধিক মানুষ। সেইবারেও কলসিতে গঙ্গাজল নিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কালপাথর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বরাবরই বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলেও সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই গ্রাম পঞ্চায়েতে ১,০৮১ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেই ৫৯০ ভোটে এগিয়ে যায় শাসক দল। আবার ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৬৮৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। ফলে ভোটের আগে এই দলবদল স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।


