Aaj India Desk, হুগলি: ভোটের ময়দানে যখন কাঁটায় কাঁটায় লড়াই, তখনই নতুন বিতর্কে ঘি ঢাললেন রচনা বন্দোপাধ্যায় (Rachna Banerjee)। রং নিয়েই তাঁর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।হুগলির দলীয় কার্যালয়ে বসে তারকা সাংসদের পরামর্শ ‘কালো রং এড়িয়ে চলুন, শুভ কাজে লাল বা অরেঞ্জই বেছে নিন।’ আর এই মন্তব্যেই বিরোধীদের কটাক্ষ, ‘ভোট কি তবে উন্নয়ন নয়, রং আর জ্যোতিষেই নির্ভর করছে?’
রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে লাল-গেরুয়া-সবুজ রং বরাবরই দলীয় পরিচয়ের প্রতীক। কিন্তু সেই রঙকেই যখন “শুভ-অশুভ”র নিরিখে ব্যাখ্যা করা হয়, তখন প্রশ্ন উঠছেই এ কি নিছক ব্যক্তিগত বিশ্বাস, নাকি ভোটের বার্তায় লুকিয়ে আছে অন্য ইঙ্গিত? ভোটের আগে এই মন্তব্য ঘিরে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। এখন দেখার, রঙের এই ‘টিপস’ ভোট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।
ভোটের আবহে রাজনীতির মঞ্চে হঠাৎই ‘রঙের বার্তা’! হুগলির চুঁচুড়ার সুগন্ধা এলাকায় সাংসদ কার্যালয়ে এসে তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যকে পাশে নিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Rachna Banerjee)। আর সেখানেই রাজনৈতিক আলোচনা ছাপিয়ে উঠে আসে জ্যোতিষের ছোঁয়া ।কমলা রঙের শাড়িতে ধরা দেওয়া তারকা সাংসদের বক্তব্য ২০২৬ নাকি ‘রাহুর বছর’ ,তাই শুভ কাজে বিশেষ এই রঙের গুরুত্ব রয়েছে। তাঁর পরামর্শ, ‘এই বছরে ভালো বা শুভ কোনও কাজে গেলে কালো রং এড়িয়ে চলুন, বরং লাল বা অরেঞ্জ বেছে নিন।’
রাজনীতির প্রচারের মাঝেই এমন ‘রঙতত্ত্ব’ ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা কৌতূহল। কেউ দেখছেন ব্যক্তিগত বিশ্বাস, কেউ আবার খুঁজছেন এর মধ্যে সূক্ষ্ম রাজনৈতিক বার্তা। ভোটের আগে এই মন্তব্যে যে নতুন বিতর্কের রং লেগেছে, তা বলাই বাহুল্য।
রাজনীতির মঞ্চে রঙের খেলা যে কত রকম হতে পারে, তারই এক চিত্র ফুটে উঠল রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Rachna Banerjee) -র বক্তব্যে। ২০২৫ সালে প্রয়াগরাজের পুণ্যস্নান হোক বা ত্রিবেণী কুম্ভ কখনও গেরুয়া, কখনও সবুজ শাড়িতে ধরা দিয়েছেন তিনি। তখনই বলেছিলেন, ‘আমি কালার থেরাপি করি।’ সেই পুরনো মন্তব্যই যেন নতুন করে ফিরে এল চুঁচুড়ার সাংবাদিক বৈঠকে।
রঙের ‘ শুভ অশুভ ‘ তত্ত্ব তুলে ধরতে গিয়েই এ দিন লাল ও কমলা রঙের পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্কে এই দুই রঙের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বিরোধী শিবিরের প্রতীক এ যেন অজান্তেই বিতর্ককে আমন্ত্রণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশে বসা যুব তৃণমূল নেত্রী প্রিয়াঙ্কা অধিকারী (Priyanka Adhikary) হালকা মজার সুরেই বলে ওঠেন, ‘ ২৬-এর নির্বাচনে কিন্তু লাল বা অরেঞ্জ কোনোটাই আসছে না।’
ফলে জ্যোতিষ, রঙ আর রাজনীতির মিশেলে তৈরি হল এক অদ্ভুত দৃশ্য যেখানে বার্তার থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এল তার ব্যাখ্যা। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দেয় ভোটের রাজনীতিতে কি এখন ইস্যুর থেকেও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে প্রতীক, ইমেজ আর ব্যক্তিগত বিশ্বাস? নাকি এগুলোই ধীরে ধীরে ভোটের বার্তাকে আরও ‘মানসিক ‘ ও ‘প্রতীকী’ করে তুলছে? রঙের এই রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাব ফেলবে ভোটবাক্সে, সেটাই এখন দেখার।


