কলকাতা: “ভয় পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী”! সুপ্রিম-নির্দেশের পরও ডিএ (DA) অধরা। বৃহস্পতিতে রাজপথে ফের সরকারি কর্মচারীরা। ধর্মতলায় জমায়েত হয়েছেন হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী। আন্দোলনের নেতৃত্বে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। প্রায় ৫০-এর বেশি সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন আন্দোলনে উপস্থিত। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন ডিসি সেন্ট্রাল। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তিনি।
এদিকে ধর্মতলা চত্বরে ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেডে আন্দোলনকারীদের আটকে দেওয়া হয়েছে। ডিএ (DA)-এর দাবীতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীদের বক্তব্য, তাঁরা ব্যারিকেড ভাঙবেন না। শান্তিপূর্ণভাবে কালীঘাট পর্যন্ত মিছিল করতে চান তাঁরা। অথবা আলোচনায় এগিয়ে আসুক মুখ্যসচিব বা মুখ্যমন্ত্রী। নয়ত কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ডেরিনা ক্রসিং আটকে তিলোত্তমাকে থমকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
পুলিশ-আন্দোলনকারীদের ‘ব্যারিকেড’ যুদ্ধ
ধর্মতলা থেকে ব্যারিকেড সরাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীদের বক্তব্য, ব্যারিকেড খোলা না হলে তাঁরাও ডোরিনা ক্রসিং থেকে সরবেন না। শহরের প্রাণকেন্দ্রে ডিএ আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের “ব্যারিকেড” নিয়ে রীতিমত স্নায়ুযুদ্ধ বেঁধে গিয়েছে। নিজেদ্রে অবস্থান থেকে সরছে না পুলিশ-আন্দোলনকারী। প্রয়োজনে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (DA)-এর ২৫% শোধ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ভোটের আগে ভাতার অঙ্ক বাড়ালেও সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে দুয়োরাণী সুলভ আচরণ মুখ্যমন্ত্রীর! এই অভিযোগে সরব সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সহ সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। সাতবার আদালতে হেরেও ডিএ মেটানো নিয়ে নেই হেলদোল, বলে স্লোগান তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
ধর্মতলা চত্বরে টানটান উত্তেজনা। একজন আন্দোলনকারী শুয়ে পড়েছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, “সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে অমান্য করছে রাজ্য সরকার। এখানে আন্দোলনে এসেছেন অসুস্থ, বৃদ্ধ সরকারি কর্মচারীরা। তাঁদের হকের লক্ষ লক্ষ টাকা আটকে রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, তিনি সৎ মানুষদের ঘৃণা করেন”।


