Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের প্রাক্কালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের (Nitin Naveen) কলকাতা সফরে উঠে এল সংগঠনের অন্দরের অসন্তোষ। তবে এবার বহিরাগত নেতাদের কড়া বার্তা দিলেন নীতিন।
দুই দিনের সফরে কলকাতায় এসে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন নীতিন নবীন (Nitin Naveen)। সেখানে ভোট প্রচার, জনসংযোগ এবং বুথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে আলাদা করে বসেন তিনি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই ‘বহিরাগত’ নেতাদের কাজের ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নীতিন স্পষ্টভাবে বলেন, “শুধু এসে ঘুরে গেলে হবে না। কর্মীদের সঙ্গে থাকতে হবে। কাজ করতে না চাইলে জানিয়ে দিন, অন্যদের সুযোগ দেওয়া হবে।” বুধবারের বৈঠকে দলের বিভিন্ন শাখাকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা মোর্চার কর্মীদের স্থানীয় আঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথাও বলেন নীতিন নবীন (Nitin Naveen)।
বাড়ছে দলীয় কোন্দল
অন্যদিকে, এই বৈঠক চলাকালীনই বিজেপির দলীয় বিক্ষোভ সামনে আসে। এর আগেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজেপির অন্দরে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। কলকাতা, নদিয়া, মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলায় ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে।
অসন্তোষের কারণ কী ?
এই অসন্তোষের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে ‘বহিরাগত বনাম ভূমিপুত্র’ বিতর্ক। পাশাপাশি, পুরনো কর্মীদের বদলে নতুন বা অন্য দল থেকে আসা নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। তৃণমূল স্তরের কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, জেলার দায়িত্ব বহিরাগত নেতাদের হাতে তুলে দেওয়ায় সংগঠনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনকে মজবুত করার বার্তা দেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বিজেপির সামনে সংগঠনকে মজবুত রাখা এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বহিরাগত বনাম স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব মেটানো এবং তৃণমূল স্তরের কর্মীদের আস্থা ফেরানো এখন দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কড়া বার্তা মাঠপর্যায়ে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই আগামী দিনে নির্বাচনী সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।


