কলকাতা: শনিবার ব্রিগেডের মেগা-সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বলেন, “কাউকে রেয়াত করা হবে না! সব অপরাধীকে জেলে ভরা হবে”। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ব্রিগেডের জনসভা শেষ হতেই সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)। এদিন মোদীর সভা শুরুর ঘন্টাখানেক আগে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গিরীশ পার্ক চত্বর।
অভিযোগ, শ্যামপুকুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার (Shashi Panja) বাড়িতে হামলা করে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। ঘটনায় তৃণমূলের বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন, আক্রান্ত হয়েছেন শশী পাঁজাও বলে অভিযোগ। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শশী পাঁজা বলেন, “এটা ব্রিগেড নয়। বি-গ্রেড র্যালি। গতকাল রাত থেকে বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে বিজেপি পোষিত গুন্ডারা শহরে ঢুকেছে। মদ্যপান করে শহরে ঘোরাফেরা করেছে। আজ তাঁর বাড়ির সামনে অশান্তি করেছে। ভাঙচুর করেছে”। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শশী পাঁজার (Shashi Panja) আক্রমণ, “হিংসা করে, খুন করে বাংলা দখল করবেন?”
পাল্টা অভিযোগ বিজেপির
এদিন, গিরীশ পার্কে ব্রিগেডগামী (Brigade) কর্মী সমর্থকদের বাসে ভাঙচুর করা হয়েছে, বলে অভিযোগ বিজেপির। ভেঙে গিয়েছে বাসের সামনের কাঁচ! বিজেপির কর্মীরা ব্রিগেডে যাচ্ছেন বলে, হামলা চালিয়েছে তৃণমূলের কর্মীরা, অভিযোগ বিজেপির। পরিস্থিতি ধুন্ধুমার হলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে পুলিশ, বলে অভিযোগ বিজেপির কর্মী সমর্থকদের। একজন বিজেপি কর্মী জানান, তাঁদের ব্রিগেডগামী বাস লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু করেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। পুলিশ শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে দেখছিলেন।
ব্রিগেডে জনসমুদ্র
ভোটের আগে বিজেপির শেষ মেগা জনসভায় ব্রিগেডের ময়দানে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। জেলা ভেঙে লোক উপচে পড়েছে বলে দাবী করছিল রাজ্য নেতৃত্ব। নরেন্দ্র মোদী মঞ্চে ওঠার পর পাখির চোখে ধরা পড়ে সেই দৃশ্য। ব্রিগেডের জনসমুদ্র নিয়ে মোদী (Narendra Modi) বলেন, “ব্রিগেডে আসার পথে বাধা সৃষ্টি করেও লাভ হয়নি। এই ভিড় দেখে ভয় পেয়েছে সরকার। ব্রিগেডের এই জনসমুদ্র তৃণমূল সরকারের পতনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে”। ব্রিগেডের ভিড় নিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পাল্টা কটাক্ষ করেন, “৪২ হাজার চেয়ার ভরাতে বাইরের রাজ্য থেকে লোক আনা হচ্ছে। এরাজ্যের কুড়ি হাজার লোকও আসার সম্ভাবনা নেই।”


