Aaj India desk, কলকাতা: রাজ্যের দুই সামাজিক প্রকল্প। একটিকে ঘিরে আপত্তি, অন্যটিকে ঘিরে প্রকাশ্য কৃতজ্ঞতা। বিজেপি নেত্রীর সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক জোরদার। তবে এই ঘটনাকে শুধুই ‘দ্বিচারিতা’র ফ্রেমে দেখলে কি ছবির সবটুকু ধরা পড়ে? নাকি এর ভেতরে রয়েছে নীতি বনাম প্রাপ্তির আরও জটিল সমীকরণ?
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lokkhi Bhandar) মূলত মহিলাদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। অন্যদিকে যুব সাথী-র (Yuva-Sathi) লক্ষ্য তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান বা দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা। দুটি প্রকল্পের কাঠামো, লক্ষ্যগোষ্ঠী ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি আলাদা—এ তথ্য সরকারি নথিতেই স্পষ্ট।
বিজেপির একাংশ দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে (Lokkhi Bhandar) ‘নগদ নির্ভর কল্যাণনীতি’ হিসেবে সমালোচনা করেছে। তাঁদের বক্তব্য, সরাসরি ভাতা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের আর্থিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। সেই অবস্থান নতুন নয়। কিন্তু যুব সাথী (Yuva Sathi)নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে—দুই প্রকল্পে ভিন্ন সুর কেন?
এই প্রশ্নের উত্তরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, নগদ সহায়তা ও দক্ষতাভিত্তিক সহায়তার মধ্যে নীতিগত পার্থক্য রয়েছে। একটিতে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর, অন্যটিতে কর্মমুখী উদ্যোগ—ফলে সমর্থন বা সমালোচনার ভিত্তিও আলাদা হতে পারে।
তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সাধারণ মানুষের কাছে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ভিন্ন। যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lokkhi Bhandar) অর্থে সংসারের খরচ সামলান, তাঁদের কাছে এটি সুরক্ষা। আবার যুব সাথীর সুবিধাভোগীদের কাছে এটি ভবিষ্যতের সুযোগ। রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেও তাঁদের প্রাপ্তি বা প্রত্যাশা কিন্তু বাস্তব।
কল্যাণনীতিকে মূল্যায়নের সময় দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে দেখতে হয়—কোন প্রকল্প কতটা কার্যকর, কতজন উপকৃত হচ্ছেন, এবং দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব কী।
সুতরাং এই বিতর্ককে শুধু ‘দ্বিচারিতা’ বলেই সীমাবদ্ধ না রেখে প্রশ্নটা আরও বিস্তৃত হতে পারে—নীতির ভাষ্য যাই হোক, মানুষের জীবনযাত্রায় প্রকৃত পরিবর্তন কতটা ঘটছে? রাজনীতির তর্কের বাইরে সেই উত্তরই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


