স্নেহা পাল, কলকাতা : ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ভোটার স্লিপের (Voter Slip) ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিলো নির্বাচন কমিশন।
ভোটার স্লিপে কী বদল আনল কমিশন ?
নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, এবার থেকে ভোটার স্লিপে (Voter Slip) শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের লোগো থাকবে। স্লিপে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক, প্রার্থী ছবি বা দলীয় চিহ্ন ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটারকে তাঁর ভোটকেন্দ্র, বুথ নম্বর ও তালিকাভুক্ত তথ্য জানানো ভোটার স্লিপের মূল উদ্দেশ্য। তাই প্রচারণার কাজে যাতে ভোটার স্লিপ ব্যবহার করা না হয় তা সুনিশ্চিত করতেই এই নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন।
অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোটার স্লিপের মাধ্যমে পরোক্ষ প্রচার চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষিতেই এই কড়া পদক্ষেপ।
স্লিপে কী কী তথ্য বাধ্যতামূলক ?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি ভোটার স্লিপে (Voter Slip) বাধ্যতামূলকভাবে থাকতে হবে ভোটারের নাম, এপিক (EPIC) নম্বর, ভোটার তালিকার পার্ট নম্বর এবং নির্দিষ্ট বুথ নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা। এগুলি ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত চিহ্ন বা তথ্য রাখা যাবে না।
MCC ভাঙলে কড়া ব্যবস্থা
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল যদি নিজস্ব লোগো বা প্রার্থীর ছবি সহ ভোটার স্লিপ বিতরণ করে, তাহলে তা আদর্শ আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। বিশেষ করে ভোটের আগের ৪৮ ঘণ্টার ‘নীরবতা পর্বে’ এই ধরনের স্লিপ বিতরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
লোকসভায় অনিয়ম
সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনে একাধিক জায়গায় দলীয় এজেন্টদের হাতে প্রার্থী ছবি ও দলীয় প্রতীকযুক্ত ভোটার স্লিপ বিতরণের ঘটনা সামনে এসেছিল। তদন্তে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে ‘বুথ ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ’ ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে এই স্লিপ ছাপানো হয়েছে, যা ভোটার প্রোফাইলিং ও মাইক্রো-টার্গেটিংয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্তত ৪,০০০ প্রার্থী গত কয়েক বছরে বিভিন্ন নির্বাচনে এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এসব অ্যাপ ব্যবহারে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা নেই, তবু কিছু ক্ষেত্রে ভোটার ডেটা বিক্রির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
QR কোড যুক্ত সরকারি স্লিপ
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) মাধ্যমে সরকারি ভোটার স্লিপ বিতরণের নির্দেশ থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় রাজনৈতিক দলের বুথ এজেন্টরাই তা বিতরণ করেন। নতুন ব্যবস্থায় সরকারিভাবে QR কোডযুক্ত ভোটার স্লিপ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কাজ জোরদার করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভোটার বিভ্রান্তি কমাবে এবং ভোট প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা আরও শক্তিশালী করবে।


